Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাতটি খাদান চালুর পরও বালি মাফিয়াদের দাপট শিলিগুড়িতে

সাতটি খাদান চালুর পরও বালি মাফিয়াদের দাপট শিলিগুড়িতে
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: সাতটি খাদান চালুর পরও বালি মাফিয়াদের দাপট অব্যাহত শিলিগুড়িতে। অভিযোগ, মহকুমার বিভিন্ন নদী থেকে দেদারে পাচার হচ্ছে বালি। যা বাংলার বাড়ি প্রকল্পের উপভোক্তাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এর বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে পুলিস ও প্রশাসন। এদিকে, প্রায় আট বছর আগে টাকা জমা নেওয়া হলেও মহকুমার ২৯টি খাদানে নিয়োগ হয়নি ইজারাদার। খাদান শ্রমিকরা এনিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ। প্রশাসন সংশ্লিষ্ট খাদানগুলি চালুর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে খবর। 
Advertisement
উত্তরবঙ্গ তো বটেই রাজ্যে নদী বেষ্টিত মহকুমাগুলির মধ্যে শিলিগুড়ি একটি। এখানে মহানন্দা, বালাসন, মাঞ্ঝা, মেচি সহ ছোটবড় অসংখ্য নদী রয়েছে। যাকে কেন্দ্র করেই এখানে গড়ে উঠেছে মাইনিং ও মিনারেলের ব্যবসা। প্রশাসন সূত্রে খবর, মাইনিং ও মিনারেল কর্পোরেশনের অনুমতি নিয়ে মহকুমায় চালু হয়েছে সাতটি খাদান। যারমধ্যে ফাঁসিদেওয়া ও খড়িবাড়িতে তিনটি করে এরং মিরিকে একটি খাদান চালু হয়েছে। তা সত্ত্বেও বালি পাচার বন্ধ হয়নি। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে গৃহ নির্মাণ শুরু হতেই ফাঁসিদেওয়া, খড়িবাড়ি ও মাটিগাড়ায় বালি মাফিয়ারা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। 
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বৈধ খাদান থেকে অতিরিক্ত বালি তুলে তা বিভিন্ন এলাকায় মজুত করা হচ্ছে। পরবর্তীতে সেই বালি বেশি দামে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের উপভোক্তাদের এবং বেসরকারি বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এরবাইরে বেশকিছু জায়গায় নদীতে অবৈধ খাদান চালু করা হয়েছে। সেখান থেকে রাতভর বালি পাচার করা হচ্ছে। 
সোমবার ঘোষপুকুরে একটি স্টক ইয়ার্ডে হানা দিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে তোলা বালি বাজেয়াপ্ত করে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। পরে জরিমানা বাবদ ৪৫ হাজার টাকা আদায় করে সেই বালি ছেড়ে দেওয়া হয়। ফাঁসিদেওয়ার ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক শুভ্রজিৎ মজুমদার বলেন, বালি পাচারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। যারজেরে এখানে পাচার কিছুটা কমেছে বলেই তাঁর দাবি। মাটিগাড়ার বিডিও বিশ্বজিৎ দাস বলেন, বালি পাচার রুখতে পুলিস ও প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। ইতিমধ্যে বেআইনিভাবে বালি বোঝাই কয়েকটি ডাম্পার সহ কয়েকজন পাচারকারীকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। 
এদিকে, আট বছর আগে প্রশাসন অগ্রিম নিলেও বেশকিছু খাদান চালু করতে পারেনি। সেগুলি চালু করার দাবিতে মাঝেমধ্যেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন খাদান শ্রমিকরা। প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০১৬-’১৭ আর্থিক বছর টেন্ডার ডেকে ৩৪টি খাদানের লিজ বণ্টন করা হয়েছিল। কিন্তু পরিবেশ দপ্তরের ছাড়পত্র না থাকায় সেগুলি চালু করা যায়নি। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, ওই ৩৪টি খাদানের মধ্যে একটি চালু করা হয়েছে। বালাসনে দু’টি ও নকশালবাড়িতে একটি খাদান চালুর ব্যাপারে গ্রামবাসীদের নিয়ে শুনানি হয়েছে। বাকিগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ