সংবাদদাতা, বর্ধমান: স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুনের দায়ে স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বর্ধমান আদালত। এছাড়াও সাজাপ্রাপ্তকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে আরও পাঁচ মাস কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শুক্রবার বর্ধমানের ইলেক্ট্রিসিটি সংক্রান্ত বিশেষ আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক অনন চট্টোপাধ্যায় এই সাজা ঘোষণা করেছেন। সাজাপ্রাপ্তের নাম গদাই লোহার। ভাতার থানার বসতপুরে তার বাড়ি। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার ১৩ বছর আগে গদাইয়ের সঙ্গে গ্রামেরই রীনা লোহারের বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের দু’টি ছেলেমেয়ে রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে রীনার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। হামেশাই রাতে মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে মারধর করত গদাই। ভবিষ্যতের কথা ভেবে সব অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করতেন রীনাদেবী। ২০২১ সালের ১ নভেম্বর রাত ১০টা নাগাদ মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে মারধর করে গদাই। এরপর গলা টিপে তাঁকে মেরে ফেলে। খবর পেয়ে বাপেরবাড়ির লোকজন গিয়ে দেখেন, রীনাদেবীর মৃতদেহ বিছানায় পড়ে রয়েছে।এরপর ওই বছরের ২ নভেম্বর মৃতার বাবা ফেলু লোহার ভাতার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে বধূ নির্যাতন ও খুনের ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তে নামে থানা। পরের দিন গদাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ২০২২ সালের ৪ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট পেশ করেন তদন্তকারী অফিসার তাপস রায়। সরকারি আইনজীবী অজয় দে বলেন, মামলায় ১১ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিপত্র ও সাক্ষীদের বয়ানের ভিত্তিতে গদাইকে বধূ নির্যাতন ও খুনের ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দিয়েছেন বিচারক। খুনের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে আরও পাঁচ মাস কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এছাড়াও বধূ নির্যাতনের দায়ে দু’বছরের কারাদণ্ড ও ২০০০ টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে বিচারক। জরিমানার টাকা অনাদায়ে আরও দু’মাস কারাবাস ভোগ করতে হবে সাজাপ্রাপ্তকে। তবে, দু’টি সাজা একসঙ্গে চলবে।



