নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে খুন করে দেহ সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দিয়েছিল স্বামী। মঙ্গলবার তাকে ফাঁসির সাজা শোনাল জলপাইগুড়ি আদালত। সাজাপ্রাপ্তর নাম গোপাল দাস। বাড়ি জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার তেজপাতা কলোনি এলাকায়।
Advertisement
২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল রাতে ভক্তিনগর থানার পূর্ব চয়নপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্ত্রী লতা দাসকে (২১) বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে সে। এরপর স্ত্রীর পরনের কাপড় খুলে পাশের বাড়ির কুয়োয় ফেলে দেয়। দেহ নিয়ে গিয়ে ফেলে শ্বশুরবাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্কে। পরদিন সকালবেলা শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা লতার খোঁজ করলে বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা বলতে থাকে গোপাল। এরপর নিজে আশিঘর পুলিস ফাঁড়িতে স্ত্রী ‘নিখোঁজ’ বলে ডায়েরি করতেও যায়। কিন্তু বয়ানে অসঙ্গতি দেখে তাকে পাল্টা জেরা করে পুলিস। তাতেই সবটা স্বীকার করে নেয় সে। পরে বাপেরবাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে লতার দেহ উদ্ধার হয়। মামলার সরকারি আইনজীবী বরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে স্ত্রীকে খুন করে দেহ লোপাটের চেষ্টা করায় গোপাল দাসকে এদিন ফাঁসির নির্দেশ দিয়েছেন জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত দায়রা বিচারক (থার্ড কোর্ট) বিপ্লব রায়। মামলার সরকারি আইনজীবী বলেন, অন্য কোনও পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীর সম্পর্ক রয়েছে, এমন সন্দেহের বশে প্রায়ই লতার উপর অত্যাচার করত গোপাল। ঘটনার দিন অত্যাচারিত হয়েই বাপেরবাড়িতে চলে আসেন লতা। কিছুক্ষণ পর সেখানে এসে উপস্থিত হয় গোপাল। পরিকল্পনা করে সঙ্গে নিয়ে আসে প্যান্ডেলে বাঁশ বাঁধার দড়ি, তার ও দু’টো ইট। মাঝরাতে বালিশ চাপা দিয়ে স্ত্রীকে খুন করে গোপাল।



