সংবাদদাতা,ইসলামপুর: স্ত্রীকে খুনে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ৭ বছর আগে চোপড়া থানার দেবীঝোরা এলাকার বন্ধালাইনের আদিবাসী যুবক মাইকেল ওরাওঁ নিজের স্ত্রীকে খুন করে। শুক্রবার ইসলামপুর মহকুমা আদালত দোষীকে যাবজ্জীবনের সাজা দেয়। খুনের ঘটনা ২০১৭ সালের ১৩ অক্টোবরের। বাগানের কাজ থেকে বিকেলে বাড়ি ফিরে এসে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া লেগে যায় মাইকেল ওরাওঁয়ের। রাগের মাথায় মাইকেল ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীর মাথায় আঘাত করে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মাইকেলের স্ত্রীর মৃত্যু হয়। ঘটনার পরের দিন চোপড়া থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের হয়। সরকারি আইনজীবী মুখতার আহমেদ বলেন, মৃতার স্বামীর অবৈধ সম্পর্ক ছিল। স্ত্রী প্রতিবাদ করাতেই দু’জনের মধ্যে ঝগড়া লেগেছিল। সেসময় মাইকেল স্ত্রীর মাথায় আঘাত করে। জখমকে বিএসএফের অ্যাম্বুলেন্সে প্রথমে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে আনা হয়। পরে ইসলামপুর থেকে রেফার করা হয়েছিল উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। স্ত্রী সরফিনের মৃত্যু হয়। স্ত্রীকে মারধর করায় স্থানীয়রা মাইকেলকে গাছে বেঁধে রেখেছিল। পুলিস সেখান থেকে মাইকেলকে উদ্ধার করে এবং পরে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার তদন্ত করে তিনমাসের মধ্যেই পুলিস চার্জশিট জমা করে। ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের পর ধৃত মাইকেল দোষী সাবস্ত হয়। মাইকেলের ছেলে সোয়েল ওরাওঁ-ও বাবার বিপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছে। ঘটনার সময় সোয়েলের বয়স ছিল ১০ বছর। সরকারি আইনজীবী মুখতার আহমেদ জানান, এদিন বিচারক পিনাকী মিত্র দোষীর যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করেছেন। সঙ্গে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সাজা ঘোষণা হয়েছে।



