Bartaman Logo
৬ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টুলু কাণ্ডে ধৃতদের বিরুদ্ধে জুড়ল দুর্নীতি দমন আইনের কড়া ধারা

বীরভূমের পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডলের জাল ডিসিআর কাণ্ডে এবার আইনি ফাঁস আরও জোরাল করল পুলিশ।

টুলু কাণ্ডে ধৃতদের বিরুদ্ধে জুড়ল দুর্নীতি দমন আইনের কড়া ধারা
  • ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বীরভূমের পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডলের জাল ডিসিআর কাণ্ডে এবার আইনি ফাঁস আরও জোরাল করল পুলিশ। সরকারি রাজস্ব লুটের এই দুর্নীতিতে ধৃত সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এবার ‘প্রিভেনশন অব করাপশন অ্যাক্ট, ১৯৮৮’ বা দুর্নীতি দমন আইনের ৭ ও ১৩ নম্বর ধারা যুক্ত করা হল। সোমবার দীর্ঘ শুনানির পর সিউড়ির চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের(সিজেএম) আদালত পুলিশকে এই আইন প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে। এই নির্দেশিকার জেরে এই মামলা এবার সিজেএম আদালত থেকে স্থানান্তরিত হয়ে সিউড়ির জেলা জজ আদালতে চলে গেল। আগামী ৭অক্টোবর সেখানেই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

Advertisement

অভিযুক্তদের আইনজীবী সোমনাথ মুখোপাধ্যায় সোমবার বলেন, ‘প্রিভেনশন অফ করাপশন অ্যাক্ট যুক্ত করা নিয়ে সোমবার দীর্ঘক্ষণ শুনানি হয়। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারক এই মামলায় দুর্নীতি দমন আইন লাগু করার নির্দেশ দেন। জেলা জজ আদালতে আগামী ৭অক্টোবর সেখানে শুনানি হবে।’ তিনি আরও জানান, মূলত এই মামলায় যুক্ত চারজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধেই এই কড়া আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে যেহেতু একই মামলায় অন্যান্য অভিযুক্তরাও রয়েছেন, তাই সকলের বিচার প্রক্রিয়াই একসঙ্গে জেলা জজ আদালতে চলবে।
এই দুর্নীতিতে পুলিশ এখনও পর্যন্ত চারজন সরকারি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। সিউড়ি মহকুমা ভূমি দপ্তরের হেড ক্লার্ক প্রবীর দাস, মহম্মদবাজার ব্লক ভূমিদপ্তরের ক্যাশিয়ার বিশ্বজিৎ সাহা, মহম্মদবাজারের প্রাক্তন বিএলএলআরও সব্যসাচী মণ্ডল গ্রেপ্তার হয়েছেন। গোরু পাচার মামলায় নাম জড়ানোর পর সাসপেন্ড হওয়া অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সেহগাল হোসেন বর্তমানে পুলিশের জালে রয়েছেন। আইনজ্ঞ ও ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই মামলায় দুর্নীতি দমন আইনের ধারাগুলি যুক্ত হওয়ায় এটি তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এতদিন মামলাটিকে মূলত জালিয়াতি বা প্রতারণা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু ‘পিসি অ্যাক্ট’ যুক্ত হওয়ার অর্থ হল, সরকারি পদে বসে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ নেওয়া এবং অপরাধমূলক অসদাচরণের মতো গভীর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মামলা। এর ফলে তদন্তকারীদের ক্ষমতা একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেল। এখন পুলিশ খুব সহজেই অভিযুক্ত সরকারি আধিকারিকদের আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির হিসাব চাইতে পারবে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে বেনামি সম্পত্তি, সবকিছুর শিকড়ে পৌঁছানো সহজ হবে। ফলে নিচুতলার কর্মীদের হাত ঘুরে সেই অবৈধ টাকার ভাগ জেলার বা রাজ্যের কোন কোন রাঘববোয়ালের পকেটে ঢুকেছে তা খুঁজে বের করা সুবিধাজনক হবে। এছাড়া এই ধারাগুলি জামিন অযোগ্য হওয়ায় ধৃতদের সহজে বাইরে বেরিয়ে আসার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ