Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সাগর মেলায় খাবারে ভেজাল ধরতে কড়া নজরদারি, নিষিদ্ধ রং মেশানো ১৪ কেজি মিষ্টি বাজেয়াপ্ত

মেলা শুরুর আগে ভেজাল খাবারের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান চলল গঙ্গাসাগরে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে মেলা শুরুর আগে পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলেছে।

সাগর মেলায় খাবারে ভেজাল ধরতে কড়া নজরদারি, নিষিদ্ধ রং মেশানো ১৪ কেজি মিষ্টি বাজেয়াপ্ত
  • ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মেলা শুরুর আগে ভেজাল খাবারের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান চলল গঙ্গাসাগরে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে মেলা শুরুর আগে পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলেছে। তাতে ডায়মন্ডহারবার স্বাস্থ্য জেলার খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ বাজেয়াপ্ত করেছে ১৪ কেজি মিষ্টি। এতে বিষাক্ত রাসায়নিক যুক্ত রং ব্যবহার করা হয়েছে বলে পরীক্ষা করে জেনেছেন আধিকারিকরা।  ওই রং মানব শরীরে প্রবেশ করলে বড়োসড়ো ক্ষতি করতে পারে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। এদিকে, অপরিষ্কার ও নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি ও পরিবেশন করার জন্য ৩২ জন দোকানদারকে নোটিস ধরিয়েছেন খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা। ফুড লাইসেন্স অথবা রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট নেই, এমন আরও ৩২ জন ব্যবসায়ীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

সূত্রের খবর, এবার মেলা শুরুর অনেক আগে থেকেই সাগর দ্বীপের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে মেলা প্রাঙ্গণের আশপাশের দোকানগুলিতে বিশেষ নজর দিয়েছিল খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ। তারা কীভাবে খাবার তৈরি করছে, কোন পরিবেশে সেটা বানানো হচ্ছে—এসব খতিয়ে দেখা হয়। নমুনা সংগ্রহ করেও পরীক্ষা করানো হয়। তাতেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিভিন্ন মিষ্টির দোকানের মিষ্টি মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। তার থেকেও বড় কথা, সেগুলিতে এই ক্ষতিকর রং মেশানো হয়েছিল। সেই সমস্ত মিষ্টি বাজেয়াপ্ত করা হয়। আপাতত কেবল সতর্ক করা হয়েছে ওই ব্যবসায়ীদের। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আধিকারিকরা। ডায়মন্ডহারবার স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য অধিকারিক জয়ন্ত সুকুল বলেন, ‘সাগর মেলায় আগত পুণ্যার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে কোনও আপোষ করা হবে না। সেই কারণে আগাম নানা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে।’ 
মেলার সময় ফুড লাইসেন্স অথবা রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট ছাড়া যাতে দোকানদাররা খাবার বিক্রি না করেন, তার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল এই স্বাস্থ্য জেলার খাদ্যবিভাগ। সাগরদ্বীপের মোট পাঁচটি জায়গায় ক্যাম্প করে শংসাপত্র তৈরি করে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়। সেখানে আবেদনের ভিত্তিতে ৪৫ জন ব্যবসায়ীকে দেওয়া হয়েছে ফুড লাইসেন্স। ৬০ জনকে রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন বাজার সমিতির সঙ্গেও বৈঠক করে তাদের নানা বিষয়ে সতর্ক করেছেন আধিকারিকরা। দোকানদাররা যাতে খাবারে ‘ননফুড কালার’ না মেশান, সে ব্যাপারেও সবাইকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, মেলা চলাকালীন খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের বিশেষ নজর থাকবে জিলিপি, চপ ও ঘুগনির মতো খাবারের দিকে। কারণ তাদের মতে, দোকানদারদের এসব খাবারে রং মেশানোর প্রবণতা বেশি থাকে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ