Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উচ্চ মাধ্যমিকে কড়া গার্ড, ফরাক্কার স্কুলে দেড় লক্ষ টাকার সামগ্রী ভাঙচুর

উচ্চ মাধ্যমিকে কড়া গার্ড, ফরাক্কার স্কুলে দেড় লক্ষ টাকার সামগ্রী ভাঙচুর
  • ১৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কেন কড়া নজরদারি করা হল— এই প্রশ্ন তুলে সোমবার পরীক্ষা শেষে ফরাক্কার নয়নসুখ হাইস্কুলে ভাঙচুর চালায় কিছু পরীক্ষার্থী। তারা স্কুলের আসবাবপত্র ভেঙে চুরমার করে দেয় বলে অভিযোগ। নিউ ফরাক্কা হাইস্কুল ও তিলডাঙা হাইস্কুলের ছাত্রদের বিরুদ্ধে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। দেড় লক্ষাধিক টাকার সামগ্রী নষ্ট করা হয়েছে বলে নয়নসুখ স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি। ক্ষতিপূরণের জন্য শিক্ষাদপ্তর ও অভিযুক্ত ছাত্রদের দুই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। বোর্ডের নির্দেশ মেনে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি ভাববে বলে ওই দুই স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিমত। তবে নয়নসুখ হাইস্কুলের শিক্ষকদের আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন ছিল বলে শিক্ষকদের অভিমত।

Advertisement

জঙ্গিপুর মহকুমা স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) সন্দীপ কোড়া বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রের জিনিসপত্র ভাঙচুরের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিপূরণের বিষয়টি স্কুল কীভাবে মেটাবে সেটা তাদের বিষয়। নইলে অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীদের রেজাল্ট আটকে দেওয়ার বিধান রয়েছে।
গত সোমবার ফরাক্কার নয়নসুখ হাইস্কুলে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার শেষে একদল পরীক্ষার্থী রীতিমতো তাণ্ডব চালায়। ওইদিন ফিলোজফির পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষে বেরানোর সময়ে স্কুলের বিভিন্ন রুমের ৩০টি সিলিং, ১৪টি টিউবলাইট ভেঙে দেওয়া হয়। এছাড়াও প্রায় দশ সেট হাই ও লো বেঞ্চ, দশটি চেয়ার ও তিনটি টেবিল ভেঙে দেয়। এছাড়াও কিছু ইলেকট্রনিক সামগ্রী নষ্ট করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেড় লক্ষাধিক টাকার সামগ্রী নষ্ট করা হয়েছে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি। এবিষয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ডেপুটি সেক্রেটারিকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নয়নসুখ হাইস্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। এছাড়াও জেলা শিক্ষাদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। নয়নসুখ হাইস্কুলের টিআইসি স্বপনকুমার দাস বলেন, এ বিষয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করব না। আগামী মঙ্গলবার পরীক্ষা শেষে যা বলার বলব।
তিলডাঙা হাইস্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অভিজিৎ পাল বলেন, আমার স্কুলের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা খুব কম। তবে এবিষয়ে আমাকে চিঠি দেয়নি বা ক্ষতিপূরণের বিষয়েও বলা হয়নি। যদি বোর্ড নির্দেশ দেয়, তাহলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে ছেলেরা স্কুলের এতকিছু ভাঙচুর করা সত্ত্বেও স্যারেরা কেন বাধা দিলেন না এটাই বুঝে উঠতে পারছি না। নিউ ফরাক্কা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলাম বলেন, এবিষয়ে আমাকে নয়নসুখ স্কুল ও বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বোর্ড যদি ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয় তাহলে তা মানতে হবে।
মনিরুল সাহেব আরও বলেন, সম্প্রতি আমি আমার স্কুলেই সহকারী শিক্ষকদের হাতে আক্রান্ত হয়েছি। পরীক্ষা কেন্দ্রেও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে যেমন অভিযোগ পেয়েছি তেমনি আমার স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্ররা ৩০টি সিলিং ফ্যান ভেঙে দিয়েছে। এই স্কুলের বদনাম করতেই এসব করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ