Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কড়া নজর বারাসতেও, এবার খুলছে পুরসভার নির্মাণ-ফাইল

বারাসতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগের তদন্ত শুরু করলেন বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায়। নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। বিস্তারিত পড়ুন।

কড়া নজর বারাসতেও, এবার খুলছে পুরসভার নির্মাণ-ফাইল
  • ৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: গত কয়েক বছরে বারাসত পুরসভা এলাকায় দ্রুত বেড়েছে বহুতল আবাসনের সংখ্যা। সেই সঙ্গে যত্রতত্র বেআইনি নির্মাণ নিয়ে অভিযোগও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। রাজ্যে পালাবদলের পর এবার সেসব পুঞ্জীভূত অভিযোগের ফাইলের ‘লাল ফিতের ফাঁসে’ টান দিলেন বারাসতের বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে যে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে, বারাসতে তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বদ্ধপরিকর তিনি। বিজেপির অভিযোগ, বারাসতে বেআইনি নির্মাণ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এখানে সদ্যপ্রাক্তন শাসক দলের নেতাদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ডিসপিউটেড (বিতর্কিত) জমি! যেসব জমির মালিকানা নিয়ে মামলা চলছে, সেসব জমিই টার্গেট করতেন বারাসত পুরসভার ‘কেউকেটা’ কাউন্সিলাররা। ক্ষমতা আর প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল নেওয়ার পর কাউন্সিলার ঘনিষ্ঠ প্রোমোটারের হাতে বহুতল নির্মাণের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হত। সরকারি নিয়ম, বিল্ডিং রুলস ইত্যাদি উপেক্ষা করে একাধিক বহুতল বারাসতের বুকে মাথা তুলেছে। অভিযোগ, শুধু জমি দখল নয়, নির্মাণকে ঘিরে গড়ে উঠত শক্তিশালী সিন্ডিকেট। প্রোমোটারদের নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কাছ থেকেই বালি, পাথর, সিমেন্ট, রডসহ নির্মাণ সামগ্রী কিনতে বাধ্য করা হত। ফলে নির্মাণ সামগ্রীর গুণগত মান নিয়েও সংশয় রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অনেকক্ষেত্রে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণেই নতুন বহুতলেও বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। দুশ্চিন্তা বাড়ছে আবাসিকদের। কোথাও দেওয়ালে ফাটল, কোথাও প্লাস্টার বা ছাদের অংশ খসে পড়ছে। অনেক আবাসনে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। লিফট বা বৈদ্যুতিন পরিকাঠামো নিয়ে সমস্যা রয়েছে। সর্বোপরি নিয়ম না মানা হলেও তৃণমূল নেতাদের যোগসাজশে পুরসভার ছাড়পত্র পেতে কোনো সমস্যা হত না। অনায়াসে মিলে যেত সিসি (কমপ্লিশন সার্টিফিকেট)। বিধায়ক বলছেন, ‘ সব ফাইল খোলা হবে। পুরসভাকে সমস্ত ফাইলের তথ্য আমাকে দিতে বলে এসেছি।’ 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ