Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আয়ত্তে সংক্রমণ, ডেঙ্গু রোধে কড়া নোটিসই অস্ত্র পুরসভার

গত বছরের মতো এবারও এখনও পর্যন্ত কলকাতায় ডেঙ্গুর তেমন বাড়বাড়ন্ত দেখা যায়নি। গত বছরের তুলনায় এবছর শহরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সামান্য বাড়লেও তা দুশ্চিন্তার পর্যায়ে পৌঁছয়নি বলেই দাবি কলকাতা পুরসভার।

আয়ত্তে সংক্রমণ, ডেঙ্গু রোধে কড়া নোটিসই অস্ত্র পুরসভার
  • ১৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত বছরের মতো এবারও এখনও পর্যন্ত কলকাতায় ডেঙ্গুর তেমন বাড়বাড়ন্ত দেখা যায়নি। গত বছরের তুলনায় এবছর শহরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সামান্য বাড়লেও তা দুশ্চিন্তার পর্যায়ে পৌঁছয়নি বলেই দাবি কলকাতা পুরসভার। গত বছর (২০২৪) ৬ জুলাই পর্যন্ত শহরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ১২২ জনের কিছু বেশি। চলতি বছর এই সময়ে সেটাই কিছুটা বেড়ে ১৪০-এর ঘরে পৌঁছেছে। পুরকর্তাদের বক্তব্য, লাগাতার নোটিস, মামলা এবং জরিমানার ভয়েই সচেতন হচ্ছেন শহরবাসী। গত বছরের মতো এবারও শুরু থেকেই ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে তৎপরতা শুরু হয়েছিল। লাগাতার সচেতনতা প্রচারের পাশাপাশি বহু নিয়ম লঙ্ঘনকারীকে নোটিস ধরানো হয়। নোটিস পেয়েই টনক নড়েছে অনেকের। বাড়ির বিভিন্ন জায়গা কিংবা ফাঁকা জমিতে জঞ্জাল জমে থাকা, জমা জলের সমস্যা দূর করতে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮৩০০টি নোটিস ইস্যু করেছে পুরসভা। প্রায় সব ক’টি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ জঞ্জাল বা জমা জল সরিয়েছে। মাত্র ছ’টি নোটিসের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। পুরসভার স্বস্থ্যকর্তাদের বক্তব্য, ২০২৩ সালে ১৪৫টি মামলা হয়েছিল। গত বছর থেকে দেখা যাচ্ছে, নোটিসেই কাজ হয়ে যাচ্ছে। নরমে-গরমে বার্তা দেওয়া হচ্ছে নাগরিকদের। তাতেই সম্ভবত হুঁশ ফিরেছে বড় অংশের জনতার। 

Advertisement

২০২৩ সালে কলকাতায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৪ হাজার। সেই বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০২৪ সালের গোড়া থেকেই তৎপরতা শুরু হয়। পুরবিধি অনুযায়ী, কোনও বাড়ির চত্বরে বা ফাঁকা জমিতে আগাছার জঙ্গল, আবর্জনার স্তূপ বা জল জমে থাকলে মালিকপক্ষকে ভেক্টর কন্ট্রোল আইনে নোটিস ধরানো হয়। জায়গাটি পরিষ্কার করার জন্য ৭ থেকে ১০ দিন সময় দেওয়া হয়। তারপরও মালিকপক্ষ সাফাই না করলে পুরসভার জঞ্জাল সাফাই এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগই এলাকাটি সাফাই করে। সাফাইয়ের খরচ সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকের থেকেই আদায় করা হয়। সেই সঙ্গে মামলা রুজু করা হয় মালিকপক্ষরি বিরুদ্ধে। এসব মামলায় ১০ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। এর আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধেও মামলা করেছে পুরসভা। ভেক্টর কন্ট্রোল আইনের ক্ষমতাবলে পুরসভা রেল, বন্দর, এমনকী সেনাকেও নোটিস ধরাতে পারে। সব ক্ষেত্রেই ৪৯৬-এ ধারায় নোটিস দেওয়া হয়। এই নোটিসই এখন কার্যত জাদুকাঠি হয়ে উঠেছে! কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, নোটিসের চাপেই সবাই কথা শুনছে। মামলা দায়ের করতে হচ্ছে না বললেই চলে। লাগাতার অভিযান এবং নোটিসের ফলে জনমানসে সার্বিকভাবে একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জরিমানার ভয় ঢুকেছে নাগরিকদের একাংশের মধ্যে। পুরসভার মুখ্য পতঙ্গবিদ ডঃ দেবাশিস বিশ্বাস বলেন, ‘ডেপুটি 
মেয়র অতীন ঘোষ মশাবাহিত রোগ নিয়ে বিভিন্ন রিভিউ মিটিংয়ে বারবার ৪৯৬ এ ধারায় নোটিস ধরানোর বিষয়ে জোর দিতে বলছেন। এবছর নোটিস আরও বেশি দেওয়া হচ্ছে। মামলাও অনেক কম।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ