নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহর ও শহরতলি এলাকা থেকে মাঝেমধ্যেই অভিযোগ ওঠে, জলাভূমি বা পুকুর ভরাট করা হচ্ছে এবং সেই জায়গায় গজিয়ে উঠছে বাড়ি কিংবা বহুতল। ইতিমধ্যেই কয়েকটি জায়গা থেকে খবর এসেছে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। এই প্রেক্ষাপটেই এবার কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। একেবারে স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিলেন, ‘যদি কেউ জোর করে পুকুর ভরাট করে আমি অ্যাকশন নেবই। এখানে কোনও আপস নয়। যে করবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবেই। নগরোন্নয়ন এবং পরিবেশ দপ্তরকে আমি নজর রাখতে বলব।’
মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনে পরিবেশ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের উপর আলোচনা হয়। পরিবেশ রক্ষার্থে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপগুলির কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। যেখানেই পরিবেশ রক্ষার শপথ নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জলাভূমি আমাদের ফুসফুস। এসব যাতে কেউ ভরাট করতে না পারে, সেদিকে সকলকে দৃষ্টি দিতে হবে।’
মমতার কাছে খবর আছে, রাজ্যের পুরসভা এবং কর্পোরেশন এলাকার কোনও কোনও জায়গায় ইচ্ছামতো পুকুর ভরাট করা হয়েছে। এমনসব জায়গায় বাড়ি তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে দমকলের গাড়ি, এমনকী অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াতেরও জায়গা নেই! মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘কেউ ভাবছে, একটা বাড়ি তৈরি করে নিজেরা লাভবান হবে। কিন্তু জলাভূমি বা পুকুর ভরাট করা মানে নিঃশ্বাস শেষ করে দেওয়া, অক্সিজেন বন্ধ করে দেওয়া। ফলে স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে কিছু লোক ব্যক্তিস্বার্থে জলভূমি ভরাট করবে, তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করব না।’
বামফ্রন্ট জমানায় মাত্র তিনহাজার পুকুর কাটা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে তৃণমূল আমলে রাজ্যজুড়ে সাড়ে চার লক্ষ পুকুর কাটা হয়েছে এবং নেওয়া হয়েছে ‘জল ধরো জল ভরো’ কর্মসূচি। বনদপ্তর সুন্দরবনে ৫ লক্ষ এবং বিভিন্ন জেলা মিলিয়ে রাজ্যে ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ করেছে মোট ২০ কোটি!’