সংবাদদাতা, ঘাটাল: যাত্রী তোলার জন্য যেখানে সেখানে থামানো হচ্ছে বাস। ফলে তৈরি হচ্ছে যানজট। সমস্যায় পড়ছেন পথচারীরা। দুর্ঘটনার আশঙ্কাও দেখা দিচেছ। তাই এবার নিয়ম না মেনে গাড়ি চালানো বন্ধ করতে তৎপর হল পরিবহণ দপ্তর। বাসস্টপ ছাড়া বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো করলেই কড়া পদক্ষেপ নেবে ঘাটাল মহকুমা অতিরিক্ত আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তর। মহকুমা আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিক সঞ্জয় হালদার জানান, পরিবহণ দপ্তরের পক্ষ থেকে বাস মালিকদের সঙ্গে বুধবার একটি জরুরি মিটিং করা হয়। সেখানেই এই বার্তা দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে বাস মালিকদের জানানো হয়েছে, বাসের ছাদে কোনও যাত্রী তোলা যাবে না। ইতিমধ্যে দু’টি বাসের বিরুদ্ধে ছাদে যাত্রী তোলার জন্য কেস দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পরিবহণের নিয়মকে তোয়াক্কা না করেই ঘাটাল মহকুমায় যাত্রীবাহী বাসগুলি চলাচল করে। যাত্রীদের এনিয়ে বিস্তর অভিযোগ থাকলেও বাস মালিকরা সেই সমস্ত অভিযোগকে গুরুত্ব দেন না। নিত্যযাত্রীরা বলেন, প্রায় সব বাসই যাত্রীদের নিয়ে রাস্তার মাঝে যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে। গন্তব্যস্থলের পুরো রাস্তার অর্ধেক খুব ধীর গতিতে যায়। বাকি রাস্তায় বেপরোয়াভাবে বাস চালায়। এর ফলে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়।
এআরটিও জানান, কিছু বাস পরিবহণের নিয়মকে উপেক্ষা করে ছাদে যাত্রীদের তোলে। বেশকিছু বাসের ব্যাকলাইট না থাকার কারণে রাতে অন্য চালকদের সমস্যা হয়। মিটিংয়ে বাস মালিকের সমস্ত বিষয় নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এরপর নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিনের মিটিংয়ে বাস মালিক সংগঠনের নেতারা পরিবহণ দপ্তরের নির্দেশকে মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বাস মালিক সংগঠনের দুই নেতা মোহন বাগ এবং প্রভাত পান জানান, আগামী সপ্তাহ থেকে বাস যেখানে সেখানে দাঁড় করানো হবে না। দূরপাল্লার বাসগুলি কোন কোন স্টপে দাঁড়াবে সেগুলিও পোস্টার দিয়ে জানিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
প্রভাতবাবু জানিয়েছেন, বাসের ছাদে তাঁরা যাত্রী তোলেন না। প্রত্যেকটি বাসের ছাদের সিঁড়ি খুলে দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় চলার সময় অনেক সময় বাসের পিছনে ধাক্কা দেওয়ায় ব্যাকলাইটগুলি ভেঙে যায়। সেগুলিও যাতে তাড়াতাড়ি সারানোর ব্যবস্থা করা হয়, সেবিষয়ে বাস মালিকদের নির্দেশ দিয়ে দেওয়া হবে। রাজ্য বা জাতীয় সড়কে যাতে কোনও টোটো না চলে সেই বিষয়টিও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বাস মালিকেরা পরিবহণ দপ্তরের কাছে আর্জি রেখেছেন।