নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবর ছড়িয়ে পড়ছে। তাতে সামাজিক স্তরে অস্থিরতা বাড়ছে, যা আটকাতে সক্রিয় হল ঝাড়গ্রাম জেলার সাইবার ক্রাইম বিভাগ। বিশেষ টিম সোশ্যাল মিডিয়ায় ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছে তারা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবর আটকাতে সচেতনতামূলক প্রচারে জোর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভুয়ো ও উস্কানিমূলক খবর ছড়ানো ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।
পুলিস জানিয়েছে, ডিজিটাল মিডিয়ার রমরমার যুগে অনেকেই খবরে সত্যতা যাচাই করছেন না। ভাইরাল হওয়া খবর বা ভিডিও নিজেদের অ্যাকাউন্ট পোস্ট করেছেন। ফলে সেই সব পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে তৈরি ছবি বা ভিডিও সম্বন্ধে সাধারণ মানুষের বড় একটা অংশ এখনও সচেতন নয়। ফলে ওই সব পোস্ট সামাজিক স্তরে অস্থিরতা ও বিভেদ সৃষ্টি করছে। একাধিক ভুয়ো খবর ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে জেলা সাইবার দপ্তরের নজরে এসেছে। জেলা পুলিসের তরফে এরপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি শুরু হয়েছে।
ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, প্রিন্ট মিডিয়ার উপর প্রেস কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। অনলাইন নিউজ পোর্টালের উপরও এখন অনেক বাধানিষেধ চাপানো হয়েছে। ফেক নিউজের অপরাধের ক্ষেত্রে নূন্যতম তিন বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডের শাস্তি বিধান আছে। জেলায় কিছু ভুয়ো প্রোফাইল আমাদের নজরে এসেছে। যারা একটি নির্দিষ্ট জেলার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিচ্ছে। তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। একাধিক ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যেই ব্লক করা হয়েছে। খবরের সত্যতা যাচাই না করেই অ্যাকাউন্ট পোস্ট করতে নিষেধ করা হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে যারা ভুয়ো খবর প্রচার করছেন তাদের চিহ্নিত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জেলার স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীদের এআই মাধ্যমে তৈরি ভিডিও নিয়ে সচেতন করা হবে। ঝাড়গ্রাম জেলা সাইবার দপ্তরের আধিকারিক সব্যসাচী ঘোষ বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। খবরের সত্যতা যাচাই না করেই জেলার বহু মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের বক্তব্য রাখছেন। আমাদের নজরে এসেছে কিছু খবর এই জেলাতেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। যারা এই কাজ করছেন তাদের চিহ্নিত করা শুরু হয়েছে।
ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি প্রসূন ষড়ঙ্গি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকহারে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। কোনটি সত্যি, আর কোনটি মিথ্যে তা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব হচ্ছে না। অনেকেই ভুয়ো খবরের ফাঁদে পা দিচ্ছেন। জেলার সকলস্তরের মানুষকে এই বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।