সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: সন্ধ্যা হতেই অন্ধকারে ডুবে থাকছে শিলিগুড়ির মোহন বাগান লেন। শহরের প্রাণকেন্দ্রে মোহন বাগান ক্লাবের নামে এই রাস্তা এখন সন্ধ্যার পর স্থানীয়দের কাছে রীতিমতো উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। একটিও পথবাতি জ্বলে না। ফলে মহানন্দা ব্রিজের নীচ থেকে সূর্যসেন পার্কের আগে পর্যন্ত গোটা রাস্তা সন্ধ্যার পর থেকেই অন্ধকারে মুড়ে থাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পথবাতি না জ্বলায় অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বহিরাগতরা এসে আড্ডা জমাচ্ছে। আপত্তিকর কাজকর্ম, নেশার আসরও মাঝেমধ্যে নজরে পড়ে। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এখানে রাতে আলোর ব্যবস্থা করা হোক। না হলে নিরাপত্তার পাশাপাশি এই সুন্দর রাস্তা মানুষের ব্যবহারযোগ্য থাকবে না।
এয়ারভিউ মোড় থেকে লালমোহন মৌলিক নিরঞ্জন ঘাটের পাশ দিয়ে সূর্যসেন পার্ক পর্যন্ত বিস্তৃত মোহন বাগান লেন। কলকাতার বাইরে মোহন বাগান ক্লাবের নামে এটিই রাজ্যের প্রথম রাস্তা। ২০২৩ সালে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব এর উদ্বোধন করেন। সেই অনুষ্ঠানে শিলিগুড়ির মহানন্দা পাড়ে বসেছিল ফুটবলের চাঁদের হাট। এসেছিলেন মোহন বাগানের একঝাঁক প্রাক্তন ফুটবলার ও কর্মকর্তা।
প্রতিশ্রুতি মতো এই রাস্তার সৌন্দর্যায়নের কাজ করে দিয়েছিলেন মেয়র। মহানন্দা নদী ঘেঁষে মোহন বাগান লেনের এক ধারের দেওয়াল জুড়ে চিত্রাঙ্কন করে আকর্ষণীয় করা হয়। কিছুটা দূরেই রয়েছে সূর্যসেন পার্ক। সেখানে রাস্তায় আলো জ্বলে। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শকের ভিড়ে গমগম করে। কিন্তু পার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই রাস্তা এখন শুনশান হয়ে পড়ে।
এলাকাটি শিলিগুড়ি পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ে। এখানকার কাউন্সিলার তৃণমূলের কমল আগরওয়াল। তিনি পুরসভার বিদ্যুৎ বিভাগের মেয়র পরিষদ সদস্যও। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, নিজের ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরে আলো জ্বলছে না, তা কীভাবে তাঁর নজর এড়িয়ে যাচ্ছে?
কমল বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে। পুরসভার বিদ্যুৎ বিভাগকে জানানো হয়েছে। কিন্তু আমাদের পুরসভায় পথবাতি ঠিক করার জন্য বিশেষ ধরনের মইয়ের সংখ্যা মাত্র একটি। এত বড় শহরে বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে কাজ করতে হয় বলে সেই মই পেতে সমস্যা হচ্ছে। আশা করছি, দু-একদিনের মধ্যেই মোহন বাগান লেনের পথবাতি ঠিক করে দেওয়া হবে। আবার আলো জ্বলবে এই পথে। নিজস্ব চিত্র।