সংবাদদাতা, মানবাজার: রাত হলেই মহকুমা শহরের পথঘাট ঢাকছে অন্ধকারে। পুরুলিয়ার মানবাজার শহরের রাস্তার পথবাতিগুলি নিয়মিত জ্বলে না বলে অভিযোগ। কোথাও কোথাও দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ হয়ে রয়েছে পথবাতিগুলো। এতে সমস্যায় পড়তে হয় শহরবাসী থেকে শুরু করে, দোকানদার সহ পথচারীদের। পথবাতিগুলি ঠিকমতো জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হোক বলে দাবি স্থানীয়দের।
কয়েক বছর আগে মুখ্যমন্ত্রী পুরুলিয়ার মানবাজার মহকুমা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। অথচ মানবাজার শহরের পথঘাটের কোথাও কোথাও বাতি নেই। যেক’টি জায়গায় আছে, সেগুলো ঠিকমতো জ্বলছে না বলে অভিযোগ। কয়েক বছর আগে মানবাজার শহরের বিদ্যুতের খুঁটিতে খুঁটিতে বাতি লাগানো হয়। সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করেন মানবাজারের দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েত। শহরের পোদ্দারপাড়া, নামপাড়া, হাসপাতাল মোড়, পুরনো সব্জি মার্কেট থেকে পোস্ট অফিস মানবাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত। অন্যদিকে, মানবাজার নতুন বাসস্ট্যান্ড, পাথরমহড়া, এসডিও অফিস, বিএলআরও অফিস, ব্লক সদর অফিস সমস্ত জায়গায় বিশরী গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে। মানবাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পোদ্দার পাড়া সহ বেশ কিছু এলাকায় পথবাতিগুলি দীর্ঘদিন ধরেই অকেজো হয়েছে বলে অভিযোগ। দু’একটি পথবাতি জ্বলে বাকিগুলি বিকল।
শহরের পুরাতন সব্জি মার্কেট এলাকার ফাল্গুনী দত্ত বলেন, দোকানের সামনে যে পথবাতিগুলো আছে, দিনে জ্বলে, রাত হলে নিভে যায়। মানবাজার শহরের পোদ্দার পাড়া এলাকার পথবাতিগুলোও ঠিকমতো জ্বলে না বলে অভিযোগ। সেখানকার এক অলঙ্কার ব্যবসায়ী রাজা দত্ত জানান, বাতিগুলো নিয়মিত জ্বলছে না। এতে রাত্রিতে এলাকা অন্ধকারে ডুবে থাকে। এতে অসাধু লোকেদের সুবিধা হয়। আর এক দোকানদার নরুল হোডা মণ্ডল বলেন, আগে মাঝেমধ্যে পঞ্চায়েত থেকে লাইটের জন্য ৩০ টাকা করে নিয়ে যেত। অনেকে সেই টাকা দিত কিন্তু পঞ্চায়েত থেকে ঠিকমতো পথবাতিগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে না।
এনিয়ে মানবাজার গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান শিবানী বাউরী বলেন, দুর্গাপুজোর আগে পঞ্চায়েত থেকে পথবাতিগুলি সারানো হয়েছিল। এখন কোনও সমস্যা হয়ে থাকলে, তা দেখব। তিনি জানান, বাতিগুলির বিদ্যুতের সংযোগ ব্লক অফিস থেকে করা আছে। অনেক সময় পঞ্চায়েত থেকে টুকটাক মেরামতের প্রয়োজন হলে সমস্যা হয়। বিষয়টি আগেই ব্লক অফিসে জানিয়েছি। পঞ্চায়েতে বাতিগুলির কোন নিজস্ব মিটারও নেই।
অন্যদিকে বিশরী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার পথঘাট অন্ধকারে থাকে বলে অভিযোগ। বাসস্ট্যান্ডের সামনের এক দোকানদার বাবন ঘটক বলেন, বাসস্ট্যান্ডে ঢোকার মুখে রাস্তা রাত হলেই অন্ধকারে ডুবে থাকে। পথবাতিগুলি বিকল। পাথরমহড়ার রাজবাড়ি এলাকাতেও কোনও পথবাতি নেই বলে অভিযোগ। অথচ সেখানে রয়েছে বিএলআর অফিস, ট্রেজারি সহ বিলরী গ্রাম পঞ্চায়েত। পথঘাট রাত্রে অন্ধকারে থাকে। পাথরমহড়ার লালন বাগদি বলেন, সোলারলাইটগুলিও বিকল। রাত হলেই চারদিক অন্ধকার। চুরির ঘটনাও ঘটছে। এ নিয়ে বিশরী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সজ্জিতা বেসরা বলেন, বিষয়টি পঞ্চায়েতে কেউ আগে জানাননি। কোথাও খারাপ হয়ে থাকলে তা সারানোর ব্যবস্থা করা হবে। মানবাজারের ইন্দকুড়ি মোড়, থানা মোড়, সহ কয়েকটি মোড়ে মোড়ে হাইমাস্টলাইট আছে। সেগুলো শুধুমাত্র ওইটুকু জায়গায় আলোকিত করে। বাকি পথঘাট অন্ধকারেই থাকে বলে অভিযোগ।
এ বিষয়ে মানবাজার ১ ব্লকের বিডিও দেবাশিস ধর জানান, শহরের পথবাতির সমস্যা নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলোর সাথে কথা বলব।