Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘দিনরাত স্ত্রীকে মারছে ভূত, বাঁচান’, ডাক্তারের কাছে কাতর আর্তি স্বামীর! বিচিত্র রোগ ‘মুনচাওসেন সিনড্রোম’

‘স্যার, ওঝা-তান্ত্রিক সব দেখিয়েছি। কেউ কিছু করতে পারেনি। ও বলেই যাচ্ছে, চার-পাঁচজন মিলে রোজ ওকে মারধর করছে। আমাকে মারের দাগও দেখিয়েছে।

‘দিনরাত স্ত্রীকে মারছে ভূত, বাঁচান’, ডাক্তারের কাছে কাতর আর্তি স্বামীর! বিচিত্র রোগ ‘মুনচাওসেন সিনড্রোম’
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ‘স্যার, ওঝা-তান্ত্রিক সব দেখিয়েছি। কেউ কিছু করতে পারেনি। ও বলেই যাচ্ছে, চার-পাঁচজন মিলে রোজ ওকে মারধর করছে। আমাকে মারের দাগও দেখিয়েছে। পিঠজুড়ে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন। ওকে ভূতে ধরেছে। নাহলে কে করছে এসব?’ মাসদুয়েক আগের ঘটনা। চন্দননগরে রোগী দেখতে গিয়ে নালিকুল থেকে আসা এক মাঝবয়সি ব্যক্তির এমন দাবি শুনে পোড়খাওয়া মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দিলীপ মণ্ডল বললেন, ‘আপনি আগে একটু শান্ত হয়ে বসুন দেখি। তারপর বলুন একে একে, কী ঘটনা ঘটেছে।’ তারপর যা বোঝা গেল, তা চমকে দেওয়ার মতোই! ভদ্রলোকের স্ত্রীকে মোটেও ভূতে ধরেনি। বরং তিনি ভুগছেন বিরল মানসিক অসুখ ‘মুনচাওসেন সিনড্রোমে’। আসলে তিনি নিজেই নিজেকে আহত করছেন। রক্তাক্ত করছেন। আর স্বামীর কাছে বলছেন, চার-পাঁচজন মিলে মারধর করছে।

Advertisement

কিন্তু কেন এমন করছেন ওই মহিলা? আর জি কর মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান ডাঃ মণ্ডল বলেন, ‘নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য। সহানুভূতি অর্জনের জন্য। এ এক বিরল মানসিক অসুখ। অনেকসময় রোগী নিজেকে ক্ষতবিক্ষত করে এমনটা করে। অনেক সময় নিজের প্রিয়জন বা সন্তানের শরীরেও ক্ষত তৈরি করে। নিজে করলে মুনচাওসেন সিনড্রোম। আর বাড়ির লোকজন বা অন্যদের উপর করলে মুনচাওসেন সিনড্রোম প্রক্সি।’ 
বছর কয়েক আগে আর জি কর মেডিকেল কলেজে এমনই এক রোগীর দেখা মিলেছিল। মা নিয়ে এসেছিলেন ১০ বছরের কিশোরীকে। মাঝেমধ্যেই তাঁর মেয়ের জিভ থেকে নাকি ১-২ ফোঁটা করে রক্ত বের হয়। ভালোভাবে রোগের ইতিহাস জানার পর এবং মায়ের সঙ্গে কথা বলে আসল রহস্য ধরে ফেলেন মনোরোগ বিভাগের চিকিৎসকরা। বোঝা যায়, আসল রোগী কিশোরী নয়, তার মা! মা-ই মেয়েকে আহত করছে, জিভে ক্ষত তৈরি করছে। এমন আচরণের পিছনে আসল কারণ হল, সংসারে গুরুত্ব আদায়! 
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোগের এই অদ্ভুত নামের ইতিহাস খুঁজতে গেলে পিছিয়ে যেতে হবে অষ্টাদশ শতকে। ব্যারন ভন মুনচাওসেন নামে এক অভিজাত জার্মান পরিবারের সেনা আধিকারিক অবসরের পর শ্রোতাদের মনোরঞ্জন করতে গিয়ে নিজের সেনা-জীবনের কাহিনি অনেক বেশি অতিরঞ্জিত করে শোনাতে থাকেন। একসময় তাঁর সেই গল্প বলার ক্ষমতা ও গল্প—দু’টিই বিখ্যাত হয়ে যায়। কিন্তু নিজের চরিত্রকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বলা সেই গল্পগুলির পিছনের মনস্তত্ত্ব অনেক পরে, বিংশ শতকে ধরে ফেলেন ডাঃ রিচার্ড অ্যাসর নামে এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। না঩লিকুলের ওই গৃহবধূর চিকিৎসা শুরু হয়েছে। তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ