Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সেতুর অ্যাপ্রোচ রোড উঁচু ও চওড়া করার দাবি গ্রামবাসীদের, বন্ধ কাজ

সেতুর অ্যাপ্রোচ রোড উঁচু ও চওড়া করার দাবি গ্রামবাসীদের, বন্ধ কাজ
  • ২২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: অ্যাপ্রোচ রোডের উচ্চতা নিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে সেচদপ্তরের বিরোধ জেরে চারমাস ধরে বন্ধ ইদ্রাকপুর যাওয়ার রাস্তার কাজ। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সেতুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাস্তাটি উঁচু না হলে নদীর জল বাড়লেই রাস্তা ডুবে যাবে। তখন সেতু কোনও কাজেই আসবে না। সেই সঙ্গে রাস্তার ধারে গার্ডওয়াল করারও দাবি তোলা হয়েছে। রাস্তাটি না হওয়ায় ওই ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়েই সেতু পেরিয়ে রোজ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দাকে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
Advertisement
নবদ্বীপ শহরের পাশেই বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো এতদিন বেঁচে ছিল ইদ্রাকপুর। সম্প্রতি সেতু ও অ্যাপ্রোচ রোডের মাধ্যমে ইদ্রাকপুরকে নবদ্বীপ শহরের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ চলছে। এজন্য তৈরি করা হয়েছে একটি চল্লিশ মিটারের সেতু। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি এই সেতু ও অ্যাপ্রোচ রোডের উদ্বোধন এবং কাজ শুরু  হয়েছিল। মূল সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪০ মিটার। সেতুর দু’দিকেই থাকবে ৩০ মিটারের অ্যাপ্রোচ রোড। ইতিমধ্যে সেতুর কাজ শেষ। বাকি দু’ দিকের অ্যাপ্রোচ রোড তৈরির কাজ। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, সেতুর অ্যাপ্রোচ রোডই গ্রামে ঢোকার মূল রাস্তা। সে কারণে তাঁদের দাবি, অ্যাপ্রোচ রোড উঁচু করা হোক। সেইসঙ্গে ছাড়ি গঙ্গার জল স্রোত থেকে বাঁচতে দু’ দিকে গার্ডওয়াল দেওয়া হোক।
সেচদপ্তরের জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুল্লা শেখ বলেন, এই রাস্তার জন্য যে অর্থ অনুমোদন হয়েছিল তা ৪০ মিটার ব্রিজ আর দু’ দিকে ৩০ মিটার করে অ্যাপ্রোচ রোডের জন্য। এখন গ্রামবাসীরা দাবি তুলেছেন, অ্যাপ্রোচ রাস্তাটিকে উঁচু, চওড়া করতে হবে এবং দৈর্ঘ্যে বাড়াতে হবে। গ্রামবাসীরা যদি কাজ করতে আপত্তি জানায় তাহলে আমরা সমস্ত বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।
মায়াপুর-বামুনপুকুর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের ইদ্রাকপুর গ্রাম নদীবেষ্টিত। একটা সময়ে গ্রামবাসীদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল নৌকা। ইদ্রাকপুর থেকে নৌকায় নবদ্বীপে আসতে হতো। ২০১৩-১৪ সালে ওই গ্রামের বাসিন্দা তথা তৎকালীন নবদ্বীপ পঞ্চায়েতের সমিতির সহ সভাপতি তাপস ঘোষ গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে ছাড়ি গঙ্গায় মাটি ও ঘেঁষ ফেলে যাতায়াতের জন্য বেসরকারি ভাবে একটি রাস্তা তৈরি করেছিলেন। নবদ্বীপ যুব আবাসের কাছ থেকে ইদ্রাকপুর বৈতরণী ঘাট পর্যন্ত পাঁচশো মিটার লম্বা ছিল এই কাঁচা রাস্তাটি। রাস্তার দু’ দিকেই রয়েছে ছাড়ি গঙ্গা। নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তাপস ঘোষ বলেন, গ্রামবাসীদের দাবির সঙ্গে আমি সহমত। রাস্তা উঁচু না করলে বর্ষার সময় নদীর জল বাড়লে রাস্তা জলের তলায় চলে যাবে। এই ব্রিজের দু’ দিকে ৩০ মিটার করে অ্যাপ্রোচ রোড করার কথা। সেই অ্যাপ্রোচ রোড দু› দিকে না করে ব্রিজের সঙ্গে সামঞ্জস্য  রেখে যদি টানা ৬০ মিটার অ্যাপ্রোচ রোড একদিকে অর্থাৎ গ্রামের দিকে করা হোক এমনটাই দাবি গ্রামবাসীদের।
সম্পর্কিত সংবাদ