সংবাদদাতা, বহরমপুর: ঝগড়া করে দুই ছেলেকে নিয়ে স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যাওয়ায় অভিমানে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। আত্মহত্যার আগে মোবাইল, টিভি, আলমারি সহ ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে যান। সোমবার রাতের ঘটনাটি মুর্শিদাবাদ থানার বালিরঘাট এলাকার। পেশায় রঙ মিস্ত্রি মৃত যুবকের নাম সুকুমার হালদার(৩৪)। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত করা হচ্ছে বলে পুলিস জানিয়েছে। ১২ বছর আগে বহরমপুর থানার কাডিমবাজার ভাটপাড়ার বাসিন্দা ইতিকা হালদারের সঙ্গে বিয়ে হয় সুকুমারবাবুর। মৃতের বাবা শ্যামল হালদার বলেন, বউমার বেহিসেবি খরচের কারণে ছেলের মোটা টাকার ঋণ হয়েছিল। আট হাজার টাকা মাসিক কিস্তি মেটাতে হত। এই নিয়ে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকত। পাশাপাশি শ্যামলবাবুর দাবি, বউমা ঘনঘন বাবার বাড়ি গিয়ে একমাস করে থাকত। গত তিন মাস এই কারণে বাড়িতে অশান্তি লেগেই ছিল। সোমবার সকালে দাম্পত্য কলহ চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। ইতিকাদেবী রাগ করে দুই ছেলেকে নিয়ে বেরিয়ে যান। সুকুমারবাবু কাজে বেরিয়ে রাত ৭টা নাগাদ ফেরেন। এরপর ঘরে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করেন। সদ্য কেনা ফোন, টিভি, আলনা, আলমারি, চেয়ার ভাঙচুর করেই স্ত্রীর শাড়িতে সিলিং ফ্যানে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝোলেন। শ্যামলবাবু বলেন, আমি আর আমার স্ত্রী দোকানে গিয়েছিলাম। সাড়ে ৮টা নাগাদ ফিরে এসে জানলার ফুটো দিয়ে দেখি ছেলে ঝুলছে। ঘরে ভাঙা জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। দরজা ভেঙে উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষনা করেন।



