নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজরায়েলের যুদ্ধে টালমাটাল গোটা বিশ্ব। যে সমুদ্রপথ দিয়ে সিংহভাগ জ্বালানি তেল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরবরাহ হয়, সেই হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের যাতায়াত কবে স্বাভাবিক হবে, কেউ জানে না! ফলত, বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি ভারতেও জ্বালানি তেলের সংকট বাড়বে। ইতিমধ্যে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারের ক্ষেত্রে নানারকম বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। এই সংকট আগামী দিনে আরও প্রকট হবে বলেই আশঙ্কা। ঠিক এই সন্ধিক্ষণে আশার আলো দেখাচ্ছে শিবপুর আইআইইএসটি (ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি)-এর এক যুগান্তকারী উদ্ভাবন। তারা তৈরি করেছে ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি গ্রিন হাইড্রোজেন কুকিং ওভেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এক্ষেত্রে অতিরিক্ত দাহ্য হাইড্রোজেন গ্যাস ধরে রাখার জন্য কোনো সিলিন্ডারের প্রয়োজন পড়বে না। ওভেনের নির্দিষ্ট অংশে নির্দিষ্ট পরিমাণ জল দিলে এবং ওভেনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিলেই ইলেকট্রোলাইসিস পদ্ধতিতে জল ভেঙে যাবে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনে। সেই হাইড্রোজেনে জ্বলবে বার্নার।
আইআইইএসটি’র ইনকিউবেশন ইকোসিস্টেমের আওতায় ওভেনটি তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি এটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর প্রফেসর ভি এম এস আর মূর্তি, প্রফেসর প্রতীক দত্ত, প্রফেসর মানস কুমার সান্যাল প্রমুখ। ছিলেন সংশ্লিষ্ট টিসিজিটিবিআই (টেগোর সেন্টার ফর গ্রিন টেকনোলজি বিজনেস ইনকিউবেশন)-এর ফ্যাকাল্টি কো-অর্ডিনেটর ডঃ জুঁই দেবমল্লিকদত্ত। তিনি বলেন, ‘এই ওভেনের জন্য হাইড্রোজেন স্টোরেজের কোনো দরকার নেই। যখন ওভেন জ্বালানোর দরকার পড়বে, তখনকার মতো জল থেকে ওই গ্যাস তৈরি হয়ে যাবে। ৬ লিটার জল থেকে ৬-৭ ঘণ্টা জ্বলতে পারবে একটি বার্নার।’ অধ্যাপক মানস কুমার সান্যাল বলেন, ‘এই ওভেনে নিরাপত্তার বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে সোলার এনার্জি ব্যবহারের সংস্থানও থাকছে। সেক্ষেত্রে এই ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ গ্রিন হবে। অর্থাৎ কার্বন এমিশন নেমে আসবে শূন্যে।’
আইআইইএসটি’র তরফে জানানো হয়েছে, তাদের ইনকিউবেশন ইকোসিস্টেম এবং ইন্ডাস্ট্রি ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় এই ওভেনের ব্যবহার শুরু হতে চলেছে কিছু কমার্শিয়াল কিচেন, কমিউনিটি কিচেনে। কিছু ক্যাম্পাসে যেখানে অনেক মানুষের রান্নার জন্য বহু এলপিজি সিলিন্ডারের দরকার পড়ে, সেরকম কয়েকটি জায়গায় এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। জুঁইদেবী জানিয়েছেন, ওভেনের পেটেন্ট চেয়ে যেমন ইতিমধ্যে আবেদন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্যও তোড়জোড় শুরু হয়েছে সংশ্লিষ্ট স্তরে। প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত অধ্যাপক, বিজ্ঞানীদের আশা, এই উদ্ভাবন জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় ভুগতে থাকা দেশকে এক বিকল্প পথের দিশা দেখাবে।