সংবাদদাতা, লালবাগ: শনিবার বিকেলের ঝড়ে রানিতলা ও নবগ্রাম থানা এলাকায় মোট চারটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভগবানগোলায় মাটির দেওয়াল চাপা পড়ে দু’টি ছাগল মারা গিয়েছে। জখম হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারের পাঁচ বছরের শিশু। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। নবগ্রামে বাজ পড়ে এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার বিকেলে ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। গত কয়েকদিনের তীব্র দাবদাহের পর শনিবারের ঝড়বৃষ্টি স্বস্তি নিয়ে এলেও ঝড়ের দাপটে অল্প বিস্তর ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভগবানগোলা থানার দেবাইপুরে সামসুল শেখের মাটির বাড়ি ভেঙে পড়ে। দু’টি ছাগল মারা যায় এবং পাঁচ বছরের শিশু জখম হয়। প্রতিবেশী কাঞ্জু শেখ ও আবদুল লতিফের বাড়ির চাল উড়ে যায়। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সেলিম রেজা বলেন, পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে কিছু সাহায্য করা হয়েছে। সরকারিভাবে আরও সাহায্য পাইয়ে দিতে চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, নবগ্রাম থানার কিরীটেশ্বরী পঞ্চায়েতের কেঠর গ্রামে আদিবাসী রমেন মুর্মুর ঘরের চালা উড়ে যায়। ওই সময় রমেন মুর্মুর স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা ঘরের মধ্যে ছিলেন। কিন্তু তাদের কোনও ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পর নবগ্রাম ব্লক যুব তৃণমূল নেতৃত্ব কেঠর গ্রামে ছুটে আসেন এবং ওই পরিবারের হাতে নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী তুলে দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। ওইদিন বাজ পড়ে নবগ্রামের সিঙ্গার গ্রামের এক প্রৌঢ় মারা যান। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম জয়দেব ঘোষ। মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই প্রৌঢ় গ্রামের মাঠে গোরু নিয়ে গিয়েছিলেন। বিকেলে বজ্র-বিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। তখন ওই প্রৌঢ় একটি গাছের নীচে আশ্রয় নেন। সেইখানে বাজ পড়লে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সন্ধ্যার পর বাড়ির লোকজন খোঁজাখুঁজি করার সময় মাঠের মধ্যে তাঁকে পড়ে থাকতে দেখেন। উদ্ধার করে নবগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।