নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘ফ্লপ শো’, বিদেশি ফান্ডিং থেকে সমাজে বিভাজন। বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’ এবং রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মরিয়া হয়ে দেশজুড়ে আসরে নেমেছে বিজেপি। কারণ, একের পর এক কর্মসূচি। নিট থেকে ভোটচুরি। আর সদ্য রামলীলা ‘সাফল্য’। শুধু স্থানীয় স্তরে নয়, স্বয়ং নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহের মতো নেতৃত্বও আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়িয়েই চলেছেন। এবার তারই পালটা চ্যালেঞ্জ। সেটাও ছুড়লেন রাহুল গান্ধীই। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ আনলেন। বললেন, ‘সাহস থাকলে মুখোমুখি বিতর্কে আসুন।’
বিরোধীদের সাফ অভিযোগ, জ্ঞানেশ ইস্যুতে মোদি-শাহরা প্রবল স্নায়ুচাপে ভুগছে। না হলে শাসক দলকে ‘লোকতন্ত্র বাঁচাও’ পদযাত্রা বের করতে হয়? বিরোধীদের তাক করে স্লোগানে জোড়া হয়েছে ‘অরাজকতা হটাও’। সেই সুর চড়াতে মোদি নিজেও গুজরাত থেকে বলেছেন, ‘বাধা প্রদানকারী শক্তি ভারতের বিভাজন চাইছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে।’ সরাসরি কংগ্রেসের নামোল্লেখ না করলেও প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিত, ‘গত এক দশকের হতাশার জেরে এখন এই বিভাজনকারী শক্তি প্রকাশ্যে এনে ফেলেছে। বিদেশে কারা বৈঠক করেছে ভারত বিরোধীদের সঙ্গে? কারা ভারতের শত্রুর ভাষায় কথা বলে? আর সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যাচার ছড়ায়?’
মোদির এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই পালটা চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। রাহুলের হুংকার, ‘মোদিজি, মিথ্যা বলা বন্ধ করুন। আপনিই বরং বিদেশি সাহায্যে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। বিদেশি সাহায্যেই প্রধানমন্ত্রী পদে টিকে রয়েছেন। আপনার আর্থিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বিদেশিদের নিয়ন্ত্রণে এবং সমর্থনে আপনি নির্ভরশীল। বিদেশি সোশ্যাল মিডিয়াও আপনার পাশে রয়েছে। তাই সাহস থাকলে এই বিষয়ে প্রকাশ্যে বিতর্কে বসুন। আপনাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। যে কোনো মঞ্চে, যে কোনো সময়ে।’ এরপরই তাঁর কটাক্ষ, ‘যদিও জানি আপনি আসবেন না। কারণ আপনার সম্পর্কে যা জানি, তা নিয়েই আপনি ভীত।’
রামলীলায় মোদি বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র জনসভার সাফল্যে টগবগ করে ফুটছে কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, আরজেডির মতো বিরোধী দলগুলি। এই প্রেক্ষাপটেই নতুন করে রাহুলের চ্যালেঞ্জ বিরোধীদের আরও তাতিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে অবশ্য উদ্ধবপন্থী শিবসেনা সামান্য অসন্তুষ্ট। রবিবার রামলীলা ময়দানে দলের দুই সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্ত এবং সঞ্জয় রাউত মঞ্চে প্রথম সারিতে থাকলেও বক্তৃতার সুযোগ পাননি। শারদ পাওয়ার কন্যা সুপ্রিয়া সুলেও তাই। মূল কারণ, সময়ের অভাব। তবুও বিষয়টিতে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে সোমবার উদ্ধব থ্যাকারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ, লক্ষ্য এখন একটাই—জোটবদ্ধ থাকা। রামলীলার সভার পর সেটা আরও জরুরি বলে মনে করছে সব দল। এই আঙ্গিকেই মোদি বিরোধিতা সপ্তমে নিয়ে যাওয়ার কর্মসূচি নিয়েছে তারা। তাই খুব শীঘ্রই বৈঠকে বসছেন ‘ইন্ডিয়া’র নেতানেত্রীরা। দীপাবলি, ছট শেষে ২০ নভেম্বরের পর দিল্লিতে বৈঠক। ঠিক হবে, পরের জনসভা কোথায়। পুরভোটের আগে কলকাতায় তেমনই সভার ভাবনা ছিল। কিন্তু সেক্ষেত্রে সিংহভাগ দায়িত্ব নিতে হবে মমতার দলকে। তারা এখন সেই অবস্থায় নেই। তাই পরবর্তী সভা কংগ্রেস-শাসিত তেলেঙ্গানার রাজধানী হায়দরাবাদে করার পক্ষেই অনেকে। আর এক পক্ষ অবশ্য লখনউয়ের দিকে ঝুঁকে। কারণ, সামনেই উত্তরপ্রদেশে ভোট।



