এবার রক্তচক্ষু মুরাশুর, অন্ধ্র উপকূলে আবার ঝড়ের দাপট
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ভুবনেশ্বর: সাইক্লোন অর্ণবের তাণ্ডবের সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই ফের বিপর্যয়। এবার অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মুরাশুর। সোমবার গভীর রাতে অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ার কথা এই সাইক্লোনের। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে ইতিমধ্যেই অন্তত ২ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আরও ৩০ হাজার জনকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।  সোমবার রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলা পর্ষদের এমডি প্রখর জৈন বলেন, বঙ্গোপসাগরের উপর এই ঝড় ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার গতিতে এগচ্ছে। ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া মঙ্গলবার ভোর চারটে পর্যন্ত চলবে। সে ক্ষেত্রে মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত উপকূলীয় নানা এলাকায় তাণ্ডব চালাবে মুরাশু। 

Advertisement

সবমিলিয়ে আরও একবার প্রবল ক্ষতির আশঙ্কায় অন্ধ্রপ্রদেশ। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, নেলোর ও নারাসাপুরের মাঝে উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে মুরাশু। এর জেরে অন্ধ্রের উপকূলীয় অঞ্চলের পাশাপাশি ইয়ানাম ও রায়ালাসীমায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে। সেইসঙ্গে বয়ে যাবে প্রবল ঝড়। এছাড়াও শ্রীকাকুলম, পার্বতীপুরম মনিয়ম, বিজয়নগরম, বিশাখাপত্তনম, আল্লুরি শীতারামা রাজু, আনাকাপল্লি, কাকিনাড়া, ড. বি আর আম্বেদকর কোরাসীমা, পূর্ব গোদাবরী, পশ্চিম গোদাবরী, শ্রীসত্যসাই এবং অনন্তপুর জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার পর্যন্ত ওই এলাকাগুলিতে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
চেন্নাই ও তামিলনাড়ুর উত্তরাঞ্চলে ইতিমধ্যেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে।  আগামী ২৪ ঘণ্টা সেখানে ভারী বৃষ্টি চলতে পারে। এছাড়া থিরুভাল্লুর জেলাতেও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। চেন্নাইয়ের আঞ্চলিক আবহাওয়া সেন্টারের ডিরেক্টর ভি আর দুরাই জানিয়েছেন, সোমবার রাতে বিশেষ করে উত্তর তামিলনাড়ুর মানুষকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। মৎস্যজীবীদেরও সতর্ক করা হয়েছে। 
দক্ষিণী দুই রাজ্যের পাশাপাশি বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে ওড়িশায়। ইতিমধ্যেই উপকূলীয় এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে আনা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মুরাশুর জেরে বিশেষ করে রাজ্যের দক্ষিণ প্রান্তে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলা মন্ত্রী সুরেশ পূজারি জানিয়েছেন, মুরাশু অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়লেও ওড়িশার নানা জায়গায় তার প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট এবং মালকানগিরিতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হবে। এর মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলা দলের পাশাপাশি এনডিআরএফ, ওডিআরএএফ এবং ওড়িশা দমকল বিভাগের ৩০০ কর্মী নানা এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে। আগামী দু’দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। সোমবার সকাল থেকেই নতুন করে বৃষ্টি শুরু হয় গঞ্জাম, গজপতি এবং কন্ধমাল জেলায়। এর জেরে বেশকিছু জায়গায় বন্যা পরিস্থিতি ও ধসের সৃষ্টি হয়েছে।