নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘তদন্ত হলে দুর্নীতি, আর অনিয়মের কঙ্কাল বেরিয়ে আসবে।’ কোনো বিরোধী দল বা নেতা নন, লাভজনক সরকারি ব্যাংক আইডিবিআই বেসরকারিকরণ নিয়ে এই বিস্ফোরক মন্তব্য অটলবিহারী বাজপেয়ি জমানার অর্থসচিব ইএএস শর্মার। একদিকে রাহুল গান্ধী যখন আইডিবিআই বিক্রির প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন, তখন ভারতের এই প্রাক্তন আমলার বিস্ফোরণ মোদি সরকারকে ফের দাঁড় করিয়েছে কাঠগড়ায়। তিনি সাফ বলেছেন, ‘সন্দেহ বাড়ছে। সরকার, অর্থমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি সকলের উচিত জনতার কাছে বিষয়টা স্পষ্ট করা।’ ইএএস শর্মার স্পষ্ট বার্তা, ‘চরম দুর্নীতির গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে আইডিবিআই নিয়ে। সংসদীয় তদন্ত করলে একে একে অনেক দুর্নীতির কঙ্কাল বেরবে।’ এই মর্মে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে চিঠিও দিয়েছেন তিনি। এর আগে অবশ্য তিনি চিঠি দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকেও। ব্যাংক বিক্রির প্রক্রিয়ায় যারা যুক্ত, অর্থমন্ত্রকের সেই ডিপার্টমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক অ্যাসেটস ম্যানেজমেন্টকে সরাসরি দুষেছেন তিনি। প্রাক্তন সচিবের অভিযোগ, ‘বাজারে যে ব্যাংকের শেয়ার দর ৮৫ থেকে ৯৪ টাকা, সেটাই বিক্রি করা হচ্ছে ৮১ টাকায়! এমন আশ্চর্য সিদ্ধান্তের কারণ কী? সর্বোপরি প্রশ্ন উঠছে এলআইসির এক ডিরেক্টরের ভূমিকা নিয়ে। তিনি নিজেই কানাডার ফেয়ারফ্যাক্স সংস্থার অধীনস্থ একটি কোম্পানির বোর্ডের সদস্য। অথচ, তিনিই আবার আইডিবিআই ব্যাংককে ওই ফেয়ারফ্যাক্সের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের অঙ্গ!’
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এলআইসির কাছেই ৪৯ শতাংশ শেয়ার আছে আইডিবিআইয়ের। ফলে সরাসরি স্বার্থসিদ্ধির সন্দেহ জড়িয়ে যাচ্ছে। প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এলআইসির মতো টাকার পাহাড়ে বসে থাকা ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা আইডিবিআইকে পরিচালনা করতে পারবে না বলে ভাবছে মোদি সরকার। আর বিশ্বাস করছে, বিদেশি সংস্থা সেই কাজ আরও ভালোভাবে করতে পারবে! আইডিবিআই অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যে আন্দোলনে নেমেছে। বিবৃতি দিয়েছে, আমরা পরিবার নিয়ে রাস্তায় নেমে অবস্থান বিক্ষোভ করব। যে ব্যাংকের শেয়ার দরের গড় গত এক বছরে ৮৮ টাকা ৫২ পয়সা, সেই ব্যাংক বিদেশি সংস্থাকে কেন ৮১ শতাংশ দরে বিক্রি করা হচ্ছে? মাঝে ৯৪ টাকাতেও পৌঁছেছিল এই শেয়ার। তাহলে এত কম দামে সরকারি ব্যাংক বিক্রির নেপথ্য কারণটা কী? এই প্রশ্ন আগেই তুলেছিলেন রাহুল গান্ধী। ২০২২ সালে আইডিবিআই ব্যাংকের মুনাফা ছিল ২ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের শেষে সেটাই পৌঁছেছে ৯ হাজার ৫১৩ কোটিতে। এই ব্যাংকের মোট স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ দেশজুড়ে ছড়িয়ে। অথচ মাত্র ৫২ হাজার কোটিতে ব্যাংক বিক্রির সিদ্ধান্ত? এর প্রকৃত সম্পদমূল্য কয়েকগুণ বেশি। প্রশ্ন হল, ফেয়ারফ্যাক্সকে এভাবে বিশেষ দাক্ষিণ্য দেওয়া হচ্ছে কেন?



