নয়াদিল্লি: সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল নিয়ে পাকিস্তানের সমস্ত অভিযোগের কড়া জবাব দিল ভারত। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইসলামাবাদের মুখোশ খুলল নয়াদিল্লি। অভিযোগ, সীমান্ত-সন্ত্রাসে লিপ্ত হয়ে চুক্তি কার্যকর করতে বাধা দিচ্ছে শাহবাজ শরিফের দেশ। তারাই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। তাই অবিলম্বে ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ চাপানো বন্ধ করুক পাকিস্তান। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সম্মেলনে এ ভাষাতেই ইসলামাবাদের অভিযোগ খণ্ডন করলেন মন্ত্রী কীর্তিবর্ধন।
শুক্রবার থেকে তাজিকিস্তানে বসেছে হিমবাহ সংরক্ষণ বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। ভারতের পাশাপাশি সেখানে যোগ দেন পাকস্তানের প্রতিনিধিরাও। শুক্রবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের সম্মেলনের মঞ্চ থেকেই জলচুক্তি নিয়ে ভারতকে আক্রমণ করেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, ‘সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখা নিয়ে ভারতের এই সিদ্ধান্ত একতরফা ও অবৈধ। এই চুক্তির মাধ্যমে সিন্ধু ও তার উপনদীগুলির জল বণ্টন করা হয়। সামান্য রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য এভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাজি রাখা ঠিক নয়। পাকিস্তান তা হতে দেবে না।’ পাক প্রধানমন্ত্রীর আরও দাবি, চুক্তি স্থগিত রেখে জলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ভারত। শনিবার একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে এবিষয়ে ইসলামাবাদকে যোগ্য জবাব দিল নয়াদিল্লি। ভারতের হয়ে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের অবিরত সীমান্ত-সন্ত্রাস জলচুক্তির বিধানগুলিকে কার্যকর করতে বাধা দিয়ে চলেছে। পাকিস্তানই আসলে এই চুক্তি লঙ্ঘন করছে। তাই ওদের ভারতকে মিথ্যা দোষারোপ বন্ধ করা উচিত।’
১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু জলচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন। তারপরেই চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। এদিন মন্ত্রী জানান, চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। তাই অবিলম্বে চুক্তির শর্তগুলি পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন। একইসঙ্গে হিমাবহ সংরক্ষণ সংক্রান্ত সম্মেলনে এই ইস্যু তোলার জন্য ইসলাবাদকে একহাত নেন ভারতীয় মন্ত্রী। সিংয়ের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘সম্মেলনের অপব্যবহার করছে পাকিস্তান। ফোরামের সঙ্গে যোগ নেই এমন বিষয় উল্লেখ করা হচ্ছে। এই ধরনের কাজের তীব্র নিন্দা করছি।’