Bartaman Logo
৬ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বড়জোড়ার সাহারজোড়ায় লাঙলের ফলায় উঠে আসা শিলাখণ্ডই হলেন দেবী মহামায়া

বড়জোড়া ব্লকের সাহারজোড়ায় কৃষিজমি কর্ষণের সময় লাঙলের ফলায় উঠে আসা শিলাখণ্ডকেই দেবী মহামায়া পাঁচশো বছরেরও বেশি সময় ধরে পুজো করে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বড়জোড়ার সাহারজোড়ায় লাঙলের ফলায় উঠে আসা শিলাখণ্ডই হলেন দেবী মহামায়া
  • ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া: বড়জোড়া ব্লকের সাহারজোড়ায় কৃষিজমি কর্ষণের সময় লাঙলের ফলায় উঠে আসা শিলাখণ্ডকেই দেবী মহামায়া পাঁচশো বছরেরও বেশি সময় ধরে পুজো করে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এখানে দেবীর কোনও চিন্ময়ী প্রতিমা নেই। কথিত আছে, বহু বছর আগে এক চাষি মাঠে লাঙল দিচ্ছিলেন। সেইসময় একটি প্রস্তরখণ্ড মাটি ভেদ করে উঠে আসে। লাঙলের ফলার আঘাতে পাথরের গা থেকে রক্ত বের হয়। তা দেখে ওই চাষি অবাক হয়ে যান। তিনি দীর্ঘক্ষণ সেখানে বসেছিলেন। ঘোর কাটলে তিনি গ্রামে ফিরে বিষয়টি বাসিন্দাদের জানান। ওই রাতেই স্থানীয় রাজা মা দুর্গার স্বপ্নাদেশ পান। সেই থেকেই পুজোর শুরু। এখনও ওই দেবীর পুজো চলছে। মাঝে বাসিন্দারা গ্রামে একটি বারোয়ারি পুজো শুরুর চেষ্টা করেন। তবে তাতে নানাভাবে বিঘ্ন ঘটে। দেবী মহামায়ার মন্দির তখন তিনদিন ধরে বন্ধ ছিল। শত চেষ্টাতেও দরজা খোলা যায়নি। দেবী মহামায়া থাকতে গ্রামে আর অন্য কোনও দুর্গাপুজো করা যাবে না বলে অনেকে বিশ্বাস করেন। ফলে তারপর থেকে আর কেউ নতুন করে কোনও পুজো শুরুর চেষ্টা করেননি।

Advertisement

দেবী মহামায়ার সেবাইত নিতাই রায় বলেন, একসময় বড়জোড়া এলাকা মল্লরাজাদের অধীনে ছিল। সেইসময় আমাদের এলাকা সুরভূম নামে পরিচিত ছিল। সুর রাজা বা জমিদার সুরথ বাউরি এলাকায় রাজত্ব করতেন। চাষির লাঙলের ফলায় দেবী উঠে আসার রাতেই রাজাকে স্বপ্নাদেশ দেন। তারপর রাজা পুজো শুরু করেন। শোনা যায়, একবার এক শাঁখারী গ্রামে শাঁখা বিক্রি করতে আসেন। গ্রামের পুকুরপাড়ে একটি মেয়ে তাঁর কাছে শাঁখা পরেন। মহামায়া মন্দিরের পুরোহিতের মেয়ে হিসাবে তিনি নিজেকে পরিচয় দিয়ে বাবার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার জন্য শাঁখারীকে বলেন। কিন্তু ওই পুরোহিতের কোনও মেয়ে ছিল না। পরে পুকুরপাড়ে গিয়েও কাউকে দেখা যায়নি। মনে করা হয়, দেবী মহামায়া বালিকা বধূর রূপ ধারণ করে শাঁখা পরে গিয়েছেন।    
তিনি আরও বলেন, বারোমাস দেবীর নিত্যপুজো হয়। দুর্গাপুজোর চারদিন আচার মেনে পুজোপাঠ হয়। দেবীর পুজো হয় শাক্তমতে। একসময় মন্দিরে মোষ বলি হত। তবে বর্তমানে তা আর হয় না। এখন সেখানে ছাগ বলি হয়। ঘুটগোড়িয়া এলাকা থেকে একজন এসে বলিদান করেন। পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা স্বপন রায় বলেন, আগে জমিদাররা ওই পুজো পরিচালনা করতেন। কালক্রমে জমিদার প্রথার অবসান হয়। তবে দেবীর পুজোয় কোনও ব্যাঘাত ঘটেনি। বর্তমানে গ্রাম ষোলোআনার তরফে পুজো চালানো হয়। আমরা নিষ্ঠাভরে প্রতিবছর দেবীর আরাধনা করি। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ