Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

শীতকালে পেটের যত্ন

প্রবাদে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ হলেও, মূল পার্বণকাল চলে দুর্গা পুজো থেকে একেবারে সরস্বতী পুজো পর্যন্ত।

শীতকালে পেটের যত্ন
  • ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রবাদে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ হলেও, মূল পার্বণকাল চলে দুর্গা পুজো থেকে একেবারে সরস্বতী পুজো পর্যন্ত। হিসেব কষে দেখলে  গোটা শীতকালই বাঙালির উৎসবের মরশুমের মধ্যে পড়ে। শীত মানেই বাঙালির ঘরে ঘরে হাজারো নিমন্ত্রণ, পিকনিক, পার্টি, বিয়ের মরশুম। এই সময় দেদার খাওয়াদাওয়ার রুটিনে ডায়েট নিরুদ্দেশে চলে যায়! পেটের উপর খুবই অত্যাচার চলে। উৎসবের মরশুমে তাই অনেকেই কমবেশি সমস্যায় পড়েন। তবে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হন বয়স্করা। এমনিতেই কমবয়সিদের তুলনায় বয়স্কদের লিভার দুর্বল হয়। বয়সবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লিভারের আকারও ছোট হতে থাকে। তাছাড়া বয়সের সঙ্গে লিভারের ভিতরের কোষের সংখ্যাও কমতে থাকে। ফলে বিপাকক্রিয়ায় তার প্রভাব পড়ে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে লিভারে রক্তপ্রবাহও কমতে থাকে। পিত্তরসের পরিমাণও কমে। সুতরাং হজমের গণ্ডগোল এই বয়সে খুব স্বাভাবিক একটি অসুখ। 

Advertisement


তরুণদের ক্ষেত্রে আবার জীবনে স্ট্রেস বেশি। তার উপর শীতে সকলেরই একটু বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা থাকে। নানা পছন্দসই শাকসব্জি শীতে পাওয়া যায়। তাই সারা বছর যেসব পদের জন্য মন অপেক্ষা করে থাকে, সেগুলি জমিয়ে খাওয়ার সময়ও শীত। তাছাড়া ডায়েট উপেক্ষা করে ফাস্ট ফুডের প্রতি আকর্ষণও তরুণদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। অনেকের ফ্যাটি লিভার থাকে। এসব ফ্যাক্টরগুলি যোগ হয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলে লিভারে। তাই উৎসবের মরশুমে যে কোনও বয়সের মানুষেরই পেটের যত্ন প্রয়োজন। তবে শীতে কিন্তু ডায়ারিয়ার প্রকোপ কম দেখা দেয়। বরং বর্ষা ও গরমে ডায়ারিয়া বাড়ে। উৎসবের মরশুমে বদহজম, গ্যাস, অম্বল, হেপাটাইটিস বি ও হেপাটাইটিস ই-এর ঝুঁকিই বেশি থাকে। 
সুস্থ থাকতে কী করব?


• বিয়েবাড়ি, পার্টি বা পিকনিকের মরশুমে পেট ভালো রাখার প্রথম ও প্রাথমিক শর্ত, কম খাওয়া। একেবারে পেট ভরে খাবেন না। পছন্দসই মেনু হলেও পেটে একটু জায়গা রেখে খেতে হবে। 
• অনেকে বিয়েবাড়ি থাকলে বা ভারী খাওয়াদাওয়ার উপলক্ষ্য তৈরি হলে সেদিন সকালে একটি গ্যাসের ওষুধ খেয়ে নেন। এটি ভুল অভ্যাস। সমস্যা হলে তবেই ওষুধ খাওয়া উচিত। সমস্যা হতে পারে ভেবে নয়। তাই একদিন দুপুরে বা রাতে ভারী খাওয়া হবে বলে সেদিন সকালে একটি করে গ্যাসের ওষুধ খেয়ে রাখার কোনও প্রয়োজন নেই। 
• বিয়েবাড়ি, নিমন্ত্রণবাড়ি বা পার্টি থেকে ফিরে বেশি পেট ভরে গিয়েছে বলে মনে হলে কিংবা গ্যাস অম্বলের সমস্যা হলে বাড়ি ফিরে চটজলদি সমাধানের জন্য অ্যান্টাসিড জাতীয় লিক্যুইড সিরাপ বা ওষুধ খেতে পারেন। 
•  যে কোনও নিমন্ত্রণবাড়ি বা পার্টিতে রাতে খাওয়াদাওয়া থাকলে যতটা সম্ভব আগে খেয়ে নিন। রাতের খাওয়া ও ঘুমানোর মধ্যে যেন অনেকটা বিরতি থাকে। 
• যে খাবারে অ্যালার্জি হয় বা যা খেলেই পেটের সমস্যা দেখা দেয়, তা যত লোভনীয়ই হোক, খাবেন না। রাতে শাক, কপি এসব খাবার এড়িয়ে চলুন। পেট ভরানোর জন্য ভাত-নান-পরোটা এসবের চেয়ে বেশি ভরসা করুন মাছ-মাংসের উপর। তবে যা-ই খান না কেন, পরিমাণে যেন অল্প হয় ও খাওয়ার পরেও পেটে একটু খিদে থাকে।
• ভারী খাওয়াদাওয়া যে সময় করছেন, খিদে না পেলে তার পরের মিল বাদ দিতে পারেন। পেট ভালো রাখতে চাইলে ভারী খাওয়াদাওয়ার পর অপেক্ষা করুন। ফের খিদে পেলে তবেই পরের মিল খাবেন। পরের মিলটি বাদ দিলেও অসুবিধা নেই।  
• আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় কিছু ভাইরাল ইনফেকশন হয়। বিশেষ করে হেপাটাইটিস ভাইরাসের সংক্রমণ এই সময় দেখা দেয়। গরমকালে আবার দূষিত জল বা বাসি খাবার থেকেও সংক্রমণ ছড়ায়। নিয়মিত হাত পরিষ্কার করে খাওয়া, রাস্তার কাটা ফল, আঢাকা শরবত না খাওয়া, পরিষ্কার জল পান করা এগুলো সাধারণ স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। এগুলি মেনে চলুন নিয়মিত। এতে পেট ভালো থাকবে, অনুষ্ঠানেও আনন্দ করতে পারবেন।
লিখেছেন মনীষা মুখোপাধ্যায়

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ