নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাইক থামিয়ে লিফট চাওয়া ছিল তার অভ্যাস। অনেক সময় বাইক থেকে নেমে টাকাও অফার করত সে। তারপর ফাঁকতালে সেখানকার কোনও মন্দিরে ঢুকে বিগ্রহের অলঙ্কার চুরি করাই ছিল তার কাজ। এরপর চোরাই গয়না নিয়ে একই কায়দায় কোনও বাইক থামিয়ে সটকে পড়া। এভাবেই চুরি বিদ্যায় হাত পাকিয়েছিল সে। শেষমেশ পর্ণশ্রীর একটি মন্দিরে চুরি করতে গিয়ে পুলিসের হাতে ধরা পড়ে যায়। ধৃত যুবকের নাম সমীর হালদার। বাড়ি হাওড়ার বালিটিকুরিতে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে চুরি যাওয়া গয়না। জানা গিয়েছে, এই কায়দায় অনেক মন্দিরে সে চুরি করেছে।
ফেব্রুয়ারি মাসের ২৩ তারিখ পর্ণশ্রী থানা এলাকার একটি কালী মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। খোয়া যায় মা কালীর সোনার গয়না। অভিযোগ হয় থানায়। তদন্তে নেমে মন্দিরে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিস। দেখা যায়, আলখাল্লা পরে এক ব্যক্তি বিগ্রহের গয়না খুলছে। মুখ এমনভাবে ঢাকা, যাতে কেউ চিনতে না পারে। আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ওই ব্যক্তিকে একটি বাইকে উঠতে দেখা যায়। বাইকটি কোন দিকে গিয়েছে, তা জানতে ওই এলাকার ট্রাফিকের সমস্ত ক্যামেরার ছবি জোগাড় করা হয়। সব মিলিয়ে একশো ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ওই যুবক হাওড়ার দিকে যাচ্ছে। বাইকটি হাওড়া ব্রিজের ছবি পাওয়া যায়। তার ছবি বিভিন্ন থানায় পাঠানো হয়। পাশাপাশি সোর্সকে কাজে লাগিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত এক সময় সরশুনা এলাকায় থাকত। এখন থাকে হাওড়ার বালিটিকুরিতে। রবিবার পুলিস ওই এলাকায় হানা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতকে জেরা করে জানা যায়, মন্দিরে ঢুকে চুরি করাই ছিল তার পেশা। তার আগে বিভিন্ন এলাকার কোথায় কোন মন্দির আছে, তা রেকি করত সে। এরপর বাইকে লিফট চেয়ে সেখানে পৌঁছত। গয়না হাতানোর পর একইভাবে বাইক থামিয়ে ফিরত হাওড়ায়। ওই অলঙ্কার সে কোথায় রেখেছে, জেরা করে জানার চেষ্টা চলছে।