Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সুতাহাটার অরবিন্দ স্মৃতি সঙ্ঘের বাণী বন্দনায় মেতেছেন বাসিন্দারা

সুতাহাটার অরবিন্দ স্মৃতি সঙ্ঘের বাণী বন্দনায় মেতেছেন বাসিন্দারা
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, হলদিয়া: সুতাহাটার অনন্তপুর-জামালচক অরবিন্দ স্মৃতি সঙ্ঘ এবছর মুসৌরির প্রাচীন জ্বালাজি মন্দিরের আদলে সরস্বতী পুজোর মণ্ডপ তৈরি করেছে। ওই প্রাচীন মন্দিরে দেবী দুর্গার পুজো হয়। উত্তরাখণ্ডের কাংড়া জেলায় মুসৌরির বিনোগ পাহাড়ের চূড়ায় প্রায় সাড়ে ৬ হাজার ফুট উপরে ওই মন্দির হিন্দুদের ৫১টি সতীপীঠের মধ্যে অন্যতম। তীর্থযাত্রী ছাড়াও প্রকৃতিপ্রেমীরা ওই প্রাচীন মন্দিরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। হিন্দু পুরাণ মতে, সতীর শিরচ্ছেদের সময় তাঁর জিহ্বা পড়েছিল ওই জায়গায়। ওই মন্দিরে ন’টি আলোর শিখা বছরের পর বছর ধরে জ্বলছে। দেবী সরস্বতীর নামে রয়েছে একটি শিখা। সেই সূত্রেই এবার ওই মন্দিরের আদলে সরস্বতী পুজোর মণ্ডপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের সঙ্গে সরস্বতীর সাবেকি ঢঙের মূর্তির মেলবন্ধন ঘটেছে অরবিন্দ স্মৃতি সঙ্ঘের ৪৬ তম বর্ষের পুজোয়। সুতাহাটার অনন্তপুর ও জামালচক দুই গ্রাম গত তিন দশকে ‘সরস্বতী গ্রাম’ এর তকমা পেয়েছে। দশ-বারোটি ক্লাবের পুজো শুধু নয়, বাড়ি ও স্কুলের সরস্বতী পুজোতেও প্রতি বছর নতুন ভাবনার প্রতিযোগিতা চলে। এবার অরবিন্দ স্মৃতি সঙ্ঘ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সামাজিক কাজ করছে।
Advertisement
দুই গ্রামের সরস্বতী পুজো উপলক্ষ্যে বিশাল আয়োজন ‘সারস্বত উৎসবে’র পরিচিতি পেয়েছে। প্রতি বছরই এখানে পুজো উপলক্ষ্যে কমিটিগুলি চারদিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এবছর সরস্বতী পুজোর নির্ঘণ্ট রবি ও সোমবার দু’দিন থাকায় বাড়তি সুবিধা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় অরবিন্দ স্মৃতি সঙ্ঘের সারস্বত উৎসবের উদ্বোধন করেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক। উপস্থিত ছিলেন দুই জেলা পরিষদ সদস্য অর্পিতা দাস ও অভিষেক দাস, পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ সৈয়দ আমজাদ হোসেন, পুরসভা যুব দপ্তরের আধিকারিক সিদ্ধার্থ সুকুল, শিক্ষক জয়দেব পাল প্রমুখ। ক্লাবের সম্পাদক বর্ণালী মাইতি এবং সভাপতি কল্যাণী জানা বলেন, অরবিন্দ স্মৃতি সঙ্ঘে স্কুলপড়ুয়াদের নিয়মিত নাচ, গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, যোগ ব্যায়াম ও ব্রতচারী শেখানো হয়। গ্রামের ছেলেমেয়েরা এবারও নানা অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছে। 
রবিবার সন্ধ্যা থেকেই মণ্ডপে ভিড় করেছেন দর্শনার্থীরা। তবে আজ সোমবার ক্লাবের পুজো ও পুষ্পাঞ্জলির আয়োজন করা হয়েছে। বিকেলে ক্লাবের ৩০ জন শিশু কিশোর যোগ ব্যায়াম প্রদর্শন করবে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রয়েছে তাদের সমবেত আবৃত্তি ও ব্রতচারী প্রদর্শনী। ওইদিন রাতে পরিবেশিত হবে চৈতন্যপুরের শেকড় নাট্যগোষ্ঠীর নাটক ‘চোরেদের লজ্জা হল’। সঙ্ঘের প্রাক্তন সম্পাদক দেবাশিস মাইতি বলেন, এবার পুজোর বাজেট প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আশদতলিয়া অঞ্চলের আইসিডিএস কেন্দ্রের দুই শতাধিক খুদে পড়ুয়াকে টিফিন বক্স উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার পুজো মণ্ডপ প্রাঙ্গণে এলাকার বাসিন্দাদের ব্লাড গ্রুপ চিহ্নিত করতে শিবির হয়েছে। সঙ্ঘের লক্ষ্য, ওই তথ্য সংগ্রহ করে গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য একটি ব্লাড গ্রুপ পুস্তিকা তৈরি করা। এরফলে কেউ অসুস্থ হলে রক্তদানে সুবিধা হবে। ১৯৮০ সালে সুতাহাটার অনন্তপুর এবং জামালচক দুই গ্রামের সীমানায় গড়ে ওঠে অরবিন্দ স্মৃতি সঙ্ঘ। তাই ক্লাবের নামের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে দুই গ্রামের নাম। শুধু পুজো নয়, এলাকার দুঃস্থ ও রোগীদের সাহায্য করতে বছরভর অক্সিজেন সিলিন্ডার জোগান দেয় অরবিন্দ স্মৃতি সঙ্ঘ।-নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ