Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সুতাহাটায় স্কুলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা, হাত খোয়াল পড়ুয়া

সুতাহাটায় স্কুলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা, হাত খোয়াল পড়ুয়া
  • ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: সাইকেলে চড়ে স্কুলে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ডান হাত খোয়াল অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী। সুতাহাটার কুঁকড়াহাটি হাইস্কুলের ওই ছাত্রীর নাম মৌসুমি মিস্ত্রি। বাড়ি সুতাহাটা থানার রায়নগর গ্রামে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ মৌসুমি অন্যান্য ছাত্রীদের সঙ্গে হুগলি নদী বরাবর এড়িয়াখালি থেকে কুঁকড়াহাটি যাওয়ার রাস্তা ধরে সাইকেলে চরে স্কুলে যাচ্ছিল। সেইসময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি লরি তাকে ধাক্কা মারে। ওই ছাত্রী রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে। তার ডান হাতের উপর দিয়ে চাকা চলে যাওয়ায় সেটি শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়। ওই অবস্থায় ছাত্রীকে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজীর হস্তক্ষেপে হলদিয়া থেকে গ্রিন করিডর করে ওই ছাত্রীকে তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। সঙ্গে ছিলেন হলদিয়ার এসডিপিও অরিন্দম অধিকারী, সুতাহাটার ওসি সৌমিত্র ঘোষ। তমলুক থানার আইসি সুভাষচন্দ্র ঘোষ আগে থেকেই হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছিলেন। জেলাশাসকের তৎপরতায় ওই ছাত্রী হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই মেডিক্যাল টিম গঠন করে যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে রাখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
Advertisement
সাড়ে ১১টা নাগাদ গ্রিন করিডর করে ওই ছাত্রীকে তমলুক মেডিক্যাল কলেজে ইমার্জেন্সিতে আনা হয়। দ্রুত অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিন অর্থোপেডিক সার্জেন ভজন সরকার, অরিজিৎ দাস এবং শিবশঙ্কর দে দেড় ঘণ্টা ধরে অপারেশন করেন। তারপর ছাত্রীকে সিসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়। কেটে যাওয়া ডান হাত দলা পাকিয়ে গিয়েছিল। সেটি ব্যাগে ভরে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, কাটা হাত লরির চাকায় থেঁতলে গিয়েছে। সেটি জোড়া সম্ভব নয়। মারাত্মক ওই দুর্ঘটনায় সংক্রমণের আশঙ্কা প্রবল। তাই চিকিৎসকরা ওই ছাত্রীকে অবজার্ভেশনে রেখেছেন।
মৌসুমির বাবা বাপি মিস্ত্রি কেরলে কাজ করেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক শচীন্দ্রনাথ মেট্যা, গুয়াবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের স্থানীয় সদস্য অপূর্ব কালসা প্রমুখ তমলুক হাসপাতালে আসেন। প্রধান শিক্ষক বলেন, ওই ছাত্রী সাইকেলে স্কুলে আসছিল। তারসঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন ছাত্রী ছিল। স্কুল থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে সদারামচক এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। ছাত্রীর মাথায় কোনওরকম চোট লাগেনি। কিন্তু, ডান হাত জোড়া গেল না। এটাই আফশোস। অপারেশনের পর সিসিইউতে রাখা হয়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা বাদে জ্ঞান ফেরে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দুর্ঘটনার পর লরিচালক নিজে ওই ছাত্রীকে টোটোয় তুলে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। অনেক সময় ছাত্রছাত্রীরা দলবেঁধে স্কুলে যাতায়াতের সময় জটলা করে এগয়। এরফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। একসঙ্গে দলবেঁধে পুরো রাস্তাজুড়ে সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় শনিবার ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিপরীত দিক থেকে আসা ওই লরি ছাত্রীকে ধাক্কা মারে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাইকেল থেকে পড়ে যাওয়ার পর ডান হাতের উপর দিয়ে চাকা চলে যায়। 
চিকিৎসক শিবশঙ্কর দে বলেন, দুর্ঘটনায় শরীর থেকে ডান হাত আলাদা হয়ে যায়। সেই হাত থেঁতলে গিয়েছিল। কিছুতেই জোড়া লাগানোর অবস্থায় ছিল না। দেড় ঘণ্টা ধরে অপারেশন হয়। তারপর ছাত্রীকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ