Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্থানীয় যুবকদের নিয়ে মানব পাচার চক্র তৈরির চেষ্টা, গ্রেপ্তার সোহেল

স্থানীয় যুবকদের নিয়ে মানব পাচার চক্র তৈরির চেষ্টা, গ্রেপ্তার সোহেল
  • ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢুকে মানব পাচারের চক্র তৈরির চেষ্টা করছিল সোহেল। মুর্শিদাবাদ জেলার বিস্তীর্ণ খোলা সীমান্ত দিয়ে কীভাবে বাংলাদেশিদের এপারে আনা যায়, সেই পরিকল্পনা ছিল তার। কয়েকজন যুবককে নিয়ে একটি টিম তৈরি করছিল সে। সেই টিমে সোহেল রানা ছাড়াও ছিল জলঙ্গি ও লালাগোলার দুই যুবক। তাদেরকেও পাকড়াও করেছে পুলিস। ওদের সহযোগিতায় সোহেল এপারে এসেছিল। যে পথ  ধরে সে এপারে এসেছিল, সেই একই কায়দায় অন্যান্যদের এপারে আনার চেষ্টা করেছিল তারা। আর একবার ভারতে ঢুকে গেলেই সোহেল তার ওই লালগোলার বন্ধুর মাধ্যমে নকল পরিচয় পত্র তৈরি করে দিয়ে আধার কার্ড বের করে তাকেও ভারতীয় বানিয়ে দিত। 
Advertisement
সোহেলের বাড়ি বাংলাদেশের রাজশাহির গোদাগাড়িতে। সে সাত বছর আগে ভারতে ঢুকে লালগোলার আটরশিয়ার রামনগর এলাকায় এক যুবতীকে বিয়ে করে থাকতে শুরু করে। তার কাছ থেকে ভুয়ো আধার কার্ড উদ্ধার করেছে পুলিস। সোহেল রাজশাহির বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও লালগোলার আটরশিয়ার ঠিকানা দিয়ে নতুন আধার কার্ড বের করে নেয়। সোহেলের আধার কার্ডে তার বাবা ও মায়ের নামের পরিবর্তে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল রশিদ ও শেফালী বিবির নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাদেরই মেয়েকে বিয়ে করে সোহেল। এদিকে সোহলের প্রকৃত বাবা ও মায়ের নাম সাইফুল ইসলাম ও জুলেখা বিবি। তারা বাংলাদেশের বাসিন্দা। পুলিসি জেরায় এসব কথা স্বীকার করেছে সে। বেআইনিভাবে আধার কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তনের অভিযোগে লালগোলার বালিগ্রাম থেকে অলিউল আলম নামে সোহেলের বন্ধুকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসতে সহায়তার অভিযোগে জলঙ্গি থানার দয়ারামপুর থেকে শাহরুল মোল্লা নামে এক দালালকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এই শাহারুল ও অলিউল দুজনই ছিল মানব পাচারকারী র‍্যাকেটের অন্যতম সদস্য। সোহেল তাদেরকে নিয়েই একটা টিম সংঘটিত করার চেষ্টা করছিল। 
তাদের পরিকল্পনা ছিল, শাহারুল জলঙ্গি সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের ঢুকিয়ে লালগোলাতে পাঠিয়ে দেবে। সোহেল সেখানে তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দেবে। তারপর সুযোগ বুঝে ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজে পাঠিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে পরিচয় পত্র তৈরি করে দেওয়া হবে তাদের। এই পরিচয় পত্র তৈরির কাজ করবে অলিউল। কিন্তু তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই পুলিস তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। 
জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ওই বাংলাদেশের যুবককে গ্রেপ্তারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অনুপ্রবেশের গোটা র‍্যাকেটটি নষ্ট করে দেওয়া গিয়েছে। তবে অন্যান্য জায়গায় আর কেউ বাংলাদেশি ঢোকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি। বিএসএফের এক আধিকারিক বলেন, বেশ কিছু সীমান্তলাগোয়া গ্রামে আমরা আউটপোস্টগুলিকে আরও সীমান্তের দিকে নিয়ে গিয়েছি। এখন অনুপ্রবেশ হওয়া সম্ভব নয়। সীমান্তে কড়া নজরদারি চলছে। যেখানে কাঁটাতার নেই, সেখানে নজরদারি বেড়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ