নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: আগে দলমার দামালরা বছরের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এরাজ্যের জঙ্গলমহলে আসত। কিছুদিন ‘ছুটি’ কাটানোর পর তারা সদলবলে ফের ফিরে যেত। কিন্তু, বর্তমানে এরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে পাকাপাকিভাবে ঘাঁটি গেড়েছে হাতির পাল। বর্তমানে জঙ্গলমহলের তিন জেলা বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৮০টি হাতি রয়েছে। এত বেশি হাতির খাওয়ার মতো গাছপালা জঙ্গলমহলের নির্দিষ্ট কোনও জঙ্গলে নেই। এই পরিস্থিতিতে হাতির উদরপূর্তির জন্য বনদপ্তরকে বাজার থেকে সব্জি ও শাকপাতা কিনতে হচ্ছে। ওই খরচ টানা জোগানো সম্ভব নয় বুঝে এবার জঙ্গলমহলে হাতির খাবারের উপযোগী গাছ রোপণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বনবিভাগ।
Advertisement
রাজ্যের মুখ্য বনপাল(কেন্দ্রীয় চক্র) এস কুলান ডাইভাল বলেন, আমরা জঙ্গলমহলের তিন জেলায় ক্লাস্টার পদ্ধতিতে হাতির খাদ্যের উপযোগী বৃক্ষ রোপণ করতে চলেছি। বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে সাধারণত হাতির পাল ঘাঁটি গেড়ে থাকে। ফলে ওই তিন জেলার সাতটি জায়গায় কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বাঁশ, ডুমুর, চাকলদা, পিয়াল, গামার প্রভৃতি গাছ লাগানো হবে। প্রতিটি জায়গায় দু’হাজার হেক্টর জমিতে বৃক্ষরোপণ করা হবে। ফলে তিন জেলা মিলিয়ে আমরা মোট ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে ওইসব গাছ লাগাব। বাঁকুড়ায় সবচেয়ে বেশি তিনটি এবং ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে দু’টি করে ক্লাস্টার থাকছে। বর্তমানে জঙ্গলমহলের ওই তিন জেলায় বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে ও দলছুট অবস্থায় মোট ১৮০টি হাতি রয়েছে।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ণবয়স্ক একটি হাতি দিনে কমবেশি এক কুইন্টাল খাবার খায়। বর্তমানে বাঁকুড়ার বড়জোড়া রেঞ্জের জঙ্গলে ৬৩টি হাতির একটি দল রয়েছে। ওই দলকে প্রতিদিন ভরপেট খাওয়াতে বনদপ্তরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। খাবার না দিলে হাতির দল লোকালয়ে, ফসলের খেতে হামলা চালাবে। তা ঠেকাতে প্রতিদিন হাতিগুলিকে জঙ্গলের মধ্যে কুমড়ো, কপি সহ অন্যান্য সব্জি ও শাকপাতা দেওয়া হচ্ছে। একইরকমভাবে অন্যান্য এলাকায় ঘাঁটি গেড়ে থাকা হাতির পালকেও খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। বিষয়টি বনদপ্তরকে যথেষ্ট বিড়ম্বনায় ফেলেছে। হাতির পালকে খাওয়ানোর জন্য সরকারি বরাদ্দ সেভাবে থাকে না বলে বনদপ্তরের আধিকারিকরা দাবি করেছেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে তাঁরা বিশেষ উচ্চবাচ্যও করেন না। সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়ে জেলা ও রেঞ্জস্তরের আধিকারিকরা দপ্তরের শীর্ষ কর্তাদের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েছেন। তারফলেই হাতির জন্য জঙ্গলে ওইসব গাছ লাগানোর উদ্যোগ বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত। বনদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বৃক্ষরোপণের সঙ্গে সঙ্গে গাছগুলি বড় হবে না। তা হাতির খাওয়ার উপযোগী হতে কমপক্ষে পাঁচ-ছ’বছর লাগবে। তার আগে হাতির খাদ্য জোগাড় করতে আমাদের নাভিশ্বাস উঠবে। বাঁকুড়ার জঙ্গলে হাতির খাওয়ার জন্য গাছগাছালি রয়েছে।
তবে তা দিয়ে শতাধিক হাতির পেট ভরানো সম্ভব নয়। বাঁকুড়ার তিনটি বিভাগে বর্তমানে প্রায় সারা বছরই হাতি থাকছে। ফলে বারোমাস হাতির খাবার আমাদের জোটাতে হচ্ছে। এব্যাপারে সরকারের তরফে তেমন বরাদ্দ করা হয় না।



