নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হালকা শীত পড়েছে রাজ্যে। কিন্তু বেশ কিছু মরশুমি আনাজের দাম এখনও সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। শহর ও গ্রামে সব্জির দামের তফাৎ আছে ঠিকই। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তা ক্রেতাদের স্বস্তি দিচ্ছে না। এই অবস্থায় রাজ্য সরকারের দাবি, সাধারণ মানুষ যাতে সাধ্যের মধ্যে তরিতরকারি কিনতে পারে, তার জন্য যথাযথ প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
যে আনাজগুলি সাধারণ ক্রেতাদের সবচেয়ে বিপাকে ফেলছে, সেই তালিকায় আছে বেগুন, টম্যাটো, সিম, পটল, ঝিঙে, শসা বা পালং শাক। এগুলির প্রায় সবেরই দাম কিলো পিছু কমবেশি ৮০ টাকা। তবে কিছু আনাজের দাম নাগালের মধ্যে আনার ক্ষেত্রে প্রকৃতিই বিরূপ, মানছেন দপ্তরের কর্তারা। কিছু আনাজ রাজ্যের বাইরে থেকে আনার কারণে দাম বেশি রয়েছে। রাজ্যের কৃষি বিপণনমন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, ‘শীতকালে সবজির দাম যাতে সাধারণ মানুষের আয়ত্তের মধ্যে থাকে, তার জন্য একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। বাজারগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সুফল বাংলার ৭৫০টি বিপণনকেন্দ্রে বাড়ানো হয়েছে বিক্রিবাটার সময়সীমা। জেলায় চাষিদের থেকে ফসল কিনে কলকাতা ও শহরের মানুষকে কম দামে তুলে দিতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ দপ্তরের কর্তাদের ব্যাখ্যা, গত বছর সবজির যে দাম ছিল, এবছর শীতের মরশুমে সেই দাম তুলনামূলক কম। উদাহরণ দিয়ে তাঁরা বলছেন, গত বছর এই সময় কলকাতায় পালং শাকের দাম ছিল কিলো প্রতি ৭৫ টাকা। এবার তা ৬০ টাকার আশপাশে। মুলোর দাম ছিল ৫০ টাকা, এবার ৪৫ টাকা। কুমড়োর দাম ছিল গত বছর ৪০ টাকা কিলো। এবার তা ৩৫ টাকা চলছে। দপ্তরের কর্তাদের কথায়, কয়েকটি আনাজের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, দাম কোথাও কোথাও বেশি। মটরশুঁটির ফলন এখানে হয় না। টম্যাটো আনতে হয়েছে বাইরে থেকে। পটল যেহেতু এই মরশুমের সবজি নয়, তার দাম বেশি। সিম আনতে হচ্ছে বাইরের রাজ্য থেকে। সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে বেগুন চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফুলকপি ও গাজর যাতে চলতি শীতের মরশুমে একেবারে সাধ্যের মধ্যে থাকে, তার জন্য পদক্ষেপ করছে রাজ্য সরকার।