Bartaman Logo
৬ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মণ্ডপে ঢুকলে চক্রব্যূহ, হাবড়ার দুর্গাপুজোয় কুরুক্ষেত্রের রণভূমি

মণ্ডপে ঢুকতে গেলেই বাধা! সামনে রয়েছে ঢাল। সেই ঢাল পেরিয়ে প্রবেশ করতে হবে চক্রব্যূহে। তারপর যত এগনো যাবে, ততই খুলবে মহাভারতের কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের একের পর এক অধ্যায়।

মণ্ডপে ঢুকলে চক্রব্যূহ, হাবড়ার দুর্গাপুজোয় কুরুক্ষেত্রের রণভূমি
  • ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: মণ্ডপে ঢুকতে গেলেই বাধা! সামনে রয়েছে ঢাল। সেই ঢাল পেরিয়ে প্রবেশ করতে হবে চক্রব্যূহে। তারপর যত এগনো যাবে, ততই খুলবে মহাভারতের কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের একের পর এক অধ্যায়। কোথাও রথের সারি, কোথাও অস্ত্র হাতে সৈন্য। কোথাও যুদ্ধের প্রস্তুতি, কোথাও সংঘর্ষের মুহূর্ত। আলো-শব্দে চারপাশে তৈরি হবে রণক্ষেত্রের আবহ।

Advertisement

হাবড়ার প্রফুল্লনগরের আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র সমবায় উপনিবেশ সমিতির দুর্গাপুজো এবার ৭৬ বছরে। থিম ‘চক্রব্যূহ’। সেই থিমকে শুধু মণ্ডপের নকশায় আটকে না রেখে দর্শকের চলার পথের সঙ্গেও জুড়ে দিয়েছেন উদ্যোক্তারা। মণ্ডপে ঢোকার মুহূর্ত থেকেই দর্শককে নিয়ে যাওয়া হবে মহাভারতের যুদ্ধের পর্বে। কুরুক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিন্যাস ছিল চক্রব্যূহ। সেই চক্রব্যূহে অভিমন্যুর প্রবেশ এবং তাঁর মর্মান্তিক পরিণতি মহাভারতের আলোচিত কাহিনীগুলির একটি। সেই চক্রব্যূহকেই এবার হাবড়ার পুজোয় এমনভাবে তুলে ধরা হচ্ছে যাতে দর্শকের মনে হয় যে, তিনি নিজেই প্রবেশ করছেন সেই দুর্ভেদ্য যুদ্ধবিন্যাসে।
চক্রব্যূহ পেরিয়ে ভিতরে ঢুকলেই একের পর এক যুদ্ধের দৃশ্য। মণ্ডপের অলিন্দে ফুটে উঠবে মহাভারতের নানা পর্ব। তৈরি হয়েছে যুদ্ধের বিভিন্ন মডেল। রথ, সৈন্য, অস্ত্র— সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গন! মণ্ডপের পথটিও এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যাতে ধীরে ধীরে দর্শকের সামনে যুদ্ধের পরিধি বাড়তে থাকে। এই থিমের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে চলেছে আবহ। শুধু চোখের সামনে যুদ্ধ দেখানো নয়। সাউন্ড সিস্টেমে যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি করা হবে। তার সঙ্গে চলবে আলোর খেলা। ফলে চক্রব্যূহে ঢোকার পর দর্শক কিছুক্ষণের জন্য ভুলে যাবেন বাইরের পৃথিবীকে। মনে হবে, তিনি দাঁড়িয়ে আছেন কুরুক্ষেত্রের মাটিতে।
মণ্ডপ তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে টিন, তার, প্লাই এবং ফাইবার। মণ্ডপ তৈরি করছেন দাঁতনের শিল্পী বিশ্বরঞ্জন রাজ। সাবেকি প্রতিমা তৈরি করছেন অশোকনগরের দেবরাজ পাল। এবারের পুজোর বাজেট প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। মহালয়ার পরের দিন মণ্ডপে আসবে প্রতিমা। চতুর্থীর দিন হবে পুজোর উদ্বোধন। পুজো কমিটির সদস্য সৈকত চক্রবর্তী বলেন, চক্রব্যূহকে আমরা শুধু একটা যুদ্ধের নকশা হিসাবে দেখাতে চাইনি। দর্শক যেন নিজেরাই তার মধ্যে প্রবেশ করেন, সেই ভাবনাই নিয়েছি আমরা। চক্রব্যূহ পেরিয়ে যত ভিতরে যাবেন, ততই মহাভারতের যুদ্ধের বিভিন্ন দৃশ্য সামনে আসবে। আলো, শব্দ এবং মডেলের মাধ্যমে সেই যুদ্ধের একটা আবহ তৈরি করাই আমাদের চেষ্টা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ