Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ঘুমন্ত অবস্থায় আগুন, মৃত্যু সৎ মায়ের, আশঙ্কাজনক বাবা

ভোরের দিকে ঘরের বারান্দায় নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছিলেন খণ্ডঘোষের উদয়কৃষ্ণপুরের মিস্ত্রি দম্পতি। বারান্দার ফাঁক দিয়ে পেট্রল ঢালা হয় তাঁদের গায়ে।

ঘুমন্ত অবস্থায় আগুন, মৃত্যু সৎ মায়ের, আশঙ্কাজনক বাবা
  • ২৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, খণ্ডঘোষ: ভোরের দিকে ঘরের বারান্দায় নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছিলেন খণ্ডঘোষের উদয়কৃষ্ণপুরের মিস্ত্রি দম্পতি। বারান্দার ফাঁক দিয়ে পেট্রল ঢালা হয় তাঁদের গায়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছুড়ে দেয় জ্বলন্ত দেশলাই কাঠি। সঙ্গে সঙ্গে দাউ দাউ করে ধরে যায় আগুন। সেই আগুনে দগ্ধ হয়ে ছটফট করতে করতে বারান্দা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলেন কৃষ্ণপদবাবু ও তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী সন্ধ্যাদেবী। কিন্তু পারলেন না। কারণ দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। তখন বাইরে দাঁড়িয়ে ছেলে বাবলু। ভেবেছিলেন, ছেলে নিশ্চয়ই এই বিপদ থেকে তাঁদের বাঁচাবে। কিন্তু তা না করে পিঠটান দিল সে। দম্পতি ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। সবা‌ই ঘুমে আচ্ছন্ন। ঘুম ভাঙার পর যখন প্রতিবেশীরা বাড়ির কাছে গেলেন তখন সব শেষ। সন্ধ্যা মিস্ত্রি(৪২) মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। তাঁর স্বামী কৃষ্ণপদ মিস্ত্রির(৫০) শরীরও ঝলসে কালো হয়ে গিয়েছে। অন্য ঘরে ঘুমিয়ে ছিল তাদের ১৪ বছরের ছেলে এবং ১০ বছরের মেয়ে। আগুনের তাপে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদেরও বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।পুলিস জানিয়েছে, এই ঘটনায় কৃষ্ণপদর প্রথম পক্ষের ছেলে বাবলু মিস্ত্রিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে জেরায় জানিয়েছে, মা মারা যাওয়ার পর দেড় কাঠা সম্পত্তি তার নামে লিখে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বারবার বলার পরও তার বাবা তা লিখে দেননি। সৎ মা সন্ধ্যা মিস্ত্রি তাতে বাধা দিচ্ছিলেন। সেই কারণেই সে পেট্রল ঢেলে খুন করার সিদ্ধান্ত নেয়। বর্ধমান দক্ষিণের মহকুমা পুলিস আধিকারিক অভিষেক মণ্ডল বলেন, বাবলু জেরায় অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ