Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নাবালক ভাইকে ভাগীরথীতে ঠেলে ফেলে চম্পট সৎ দাদার

সৎ দাদার বিরুদ্ধে নাবালক ভাইকে অপহরণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে নবদ্বীপ থানায়। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, ছোট ভাইকে নৌকা থেকে ঠেলে ভাগীরথীতে ফেলে দিয়েছে দাদা। তদন্তে নেমেছে পুলিস।

নাবালক ভাইকে ভাগীরথীতে ঠেলে ফেলে চম্পট সৎ দাদার
  • ২৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: সৎ দাদার বিরুদ্ধে নাবালক ভাইকে অপহরণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে নবদ্বীপ থানায়। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, ছোট ভাইকে নৌকা থেকে ঠেলে ভাগীরথীতে ফেলে দিয়েছে দাদা। তদন্তে নেমেছে পুলিস। ঘটনাটি ঘটেছে নবদ্বীপ থানার চরমাজদিয়া-চরব্রহ্মনগর পঞ্চায়েতের চরব্রহ্মনগর-কপালিপাড়ায়। জানা গিয়েছে, নিখোঁজ পাঁচ বছরের ওই নাবালকের মা বন্দনাদেবীর দু’টি বিয়ে। ওই নাবালক তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের সন্তান। অভিযুক্ত দাদা সুমন দত্ত বন্দনাদেবীর প্রথম পক্ষের বড় ছেলে। বন্দনাদেবী বলেন, সুমন কালনার সাতগেছিয়ায় ওর বাবার সঙ্গে থাকে। শনিবার দুপুরে ও নবদ্বীপের বাড়িতে আসে। সেদিন ওর জন্মদিন হওয়ায় দুপুরে খাওয়া-দাওয়া হয়। বারণ করা সত্ত্বেও কেক কিনবে বলে রাত ৮টা নাগাদ ভাইকে নিয়ে সাইকেলে নবদ্বীপ শহরের উদ্দেশে বের হয় সুমন। অনেক রাত হয়ে গেলেও ওরা ফেরেনি।

Advertisement

ওই নাবালকের পরিবারের তরফে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নবদ্বীপ থানার পুলিসকে জানানো হয়। পুলিস অভিযোগের ভিত্তিতে অপহরণের মামলা রুজু করে। পুলিস এদিন দুপুরে নদী ঘাটে এবং ওই নাবালকের বাড়িতে যায়। তার খোঁজে নদীয়া ক্যুইক রেসপন্স টিমের সদস্যরা স্পিড বোট ও ডুবুরি নিয়ে নদীতে তল্লাশি শুরু করেছে। নাবালকের বাবা জয়দেব বিশ্বাস বলেন, ও আমার একমাত্র ছেলে। সুমনের মনে আমার ছেলেকে মেরে ফেলার আগাম পরিকল্পনা ছিল। এই বাড়িতে সুমনের আসা-যাওয়া আমি পছন্দ করতাম না। শনিবার রাত ৯টা থেকে সুমনকে ফোন করে সুইচ অফ পাই। তারপর রাত ১০টায় নদীঘাটে যাই। ওখানে লোকমুখে শুনি, সুমন আমার ছেলেকে নবদ্বীপ ঘাটের কাছে নৌকা থেকে জলে ফেলে দিয়েছে। রবিবার সকাল থেকেই জয়দেব বিশ্বাস রাস্তার ধারে বসে চোখের জল ফেলে চলেছেন। 
বন্দনাদেবী বলেন, আমার ছোট ছেলে সুমনকে খুব ভালোবাসতো। সুমন ওর বাবার বুদ্ধিতেই একাজ করেছে। নবদ্বীপ জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির সম্পাদক সুশান্ত হালদার বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার নৌকায় ওরা স্বরূপগঞ্জ ঘাট থেকে নবদ্বীপে আসছিল। সেই নৌকায় দাদার সঙ্গে বাচ্চাটিও ছিল। নবদ্বীপঘাটের কাছে জেটিতে নৌকা ভেড়ার আগেই বাচ্চাটিকে জলে ফেলে দেয় ওর দাদা। আমাদের দু’জন মাঝি নৌকা ঘুরিয়ে বাচ্চাটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ততক্ষণে বাচ্চাটি ডুবে যায়। এদিকে, পাড়ে নৌকা ভিড়তেই দাদা লাফ দিয়ে পালায়। কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার(গ্রামীণ) উত্তম ঘোষ বলেন, শনিবার রাতে অপহরণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্ত করতে গিয়ে শোনা যাচ্ছে, ওই বালককে ভাগীরথীর জলে ফেলা হয়েছে। এই বিষয়ে খোঁজখবর চলছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ