Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নাবালক ভাইকে ভাগীরথীতে ঠেলে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় ধৃত সৎ দাদা

নাবালক ভাইকে নৌকা থেকে ঠেলে ভাগীরথীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সৎ দাদা সুমনকে অবশেষে গ্রেপ্তার করল পুলিস। বুধবার সন্ধ্যায় তাকে নবদ্বীপ ধাম স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নাবালক ভাইকে ভাগীরথীতে ঠেলে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় ধৃত সৎ দাদা
  • ২৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নাবালক ভাইকে নৌকা থেকে ঠেলে ভাগীরথীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সৎ দাদা সুমনকে অবশেষে গ্রেপ্তার করল পুলিস। বুধবার সন্ধ্যায় তাকে নবদ্বীপ ধাম স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার রাতের ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সুমন পলাতক ছিল। তবে পালিয়েও শেষরক্ষা হল না। বিশেষ অনুসন্ধানে পুলিসের জালে ধরা পড়ল সে। এদিকে, পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ নাবালকের।

Advertisement

উল্লেখ্য, ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে রবিবার রাতে পূর্ব বর্ধমানের কালনা থানার পূর্ব সাতগাছিয়া থেকে নাবালকের মায়ের প্রথম পক্ষের স্বামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। আদালতের নির্দেশে ধৃত মোহন দত্তের পাঁচদিনের পুলিসি হেফাজত হয়। তাকে জেরা করে মূল অভিযুক্ত তার ছেলে সুমনের সন্ধান মেলে। পুলিস নির্দিষ্ট দিনের একদিন আগে আদালতে হাজির করায় বিচারক মোহন দত্তকে এদিন ১৪দিনের জেল হেফাজতে পাঠান।
বৃহস্পতিবার ধৃত সুমনকে নবদ্বীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তোলা হলে বিচারক সাতদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিস জানিয়েছে, নিখোঁজ বালকের সম্বন্ধে তথ্য পেতে অভিযুক্তকে নিয়ে সেদিনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হবে। অভিযুক্ত সুমন ইতিমধ্যেই সমস্ত অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে। একুশ বছরের সুমন গাঁজা, মদ, ভাঙ সহ প্রায় সব ধরনের মাদকের নেশায় আসক্ত ছিল। সে পুনের একটি হোটেলে কাজ করত বলে পুলিস জানতে পেরেছে।
প্রসঙ্গত, নবদ্বীপ থানার চরমাজদিয়া-চরব্রহ্মনগর পঞ্চায়েতের চরব্রহ্মনগর কপালিপাড়ার বাসিন্দা জয়দেব বিশ্বাসের নাবালক ছেলে নিখোঁজ হয়ে যায়। ঘটনায় তাঁর স্ত্রীর আগের পক্ষের স্বামী মোহন দত্তের বড় ছেলে সুমন জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। শনিবার রাতে সুমন নিজের জন্মদিনের কেক কিনতে নাবালক সৎ ভাইকে নিয়ে নবদ্বীপ শহরের উদ্দেশে বের হয়। তাদের খোঁজ না পেয়ে শনিবার রাতেই নবদ্বীপ থানায় সুমনের বিরুদ্ধে ছোট ভাইকে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সুমন তার ছোট ভাইকে নৌকা থেকে ঠেলে ভাগীরথীতে ফেলে দিয়েছে। নাবালকের খোঁজে রবিবার থেকে নবদ্বীপ থানার পুলিস এবং নদীয়া ক্যুইক রেসপন্স টিমের সদস্যরা স্পিড বোট ও ডুবুরির মাধ্যমে নদীতে তল্লাশি চালায়। বুধবার পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েও নাবালকের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। নবদ্বীপ থানার আইসি জলেশ্বর তিওয়ারি বলেন, ফেরিঘাটের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, ওই নাবালক তার দাদার সঙ্গে স্বরূপগঞ্জ ফেরিঘাট থেকে নৌকায় উঠেছিল। বালকটি যে মিসিং সেই সূত্র পাওয়া গিয়েছে। পরে দেখা যায়, তার দাদা নবদ্বীপ ফেরিঘাটে একাই নৌকা থেকে নেমেছিল। বুধবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নবদ্বীপ ধাম স্টেশন এলাকা থেকে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেদিন পাশের বাড়ির যে সাইকেলটি চড়ে ওই বালককে কেক কিনতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেটি স্থানীয় গ্যারেজ থেকে উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ