সৌমিত্র দাস, কাঁথি: প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিখ্যাত চিকিৎসক ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় দীঘার রূপকার বলে পরিচিত। আজকের সৈকতনগরী দীঘা তাঁরই উপহার। অথচ দীঘা নিয়ে প্রচারের বৈভবে তাঁর প্রকৃত মূল্যায়ন হচ্ছে না বলেই অনেকে অভিযোগ করেছেন। জগন্নাথ মন্দির তৈরি হওয়ার পর সেই স্থাপত্যের প্রচারের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে দীঘা। আর একদিকে দীঘায় তাঁর আবক্ষ মূর্তি অবহেলা আর অযত্নে পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ। এই দীঘার আগে নাম ছিল বীরকুল। বিধানচন্দ্র মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সাগরতীরের বীরকুলকে নবরূপে আবিষ্কার করেছিলেন। তাঁর হাত ধরে পর্যটনের উন্নয়নের স্বার্থে নানা পরিকাঠামোর গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়। একটু একটু করে বদলাতে বদলাতে বীরকুলই আজকের দীঘা। আজ দীঘা অপরূপ সৌন্দর্যে মোহময়ী এবং তার ‘ব্র্যান্ডভ্যালু’ আন্তর্জাতিকতা স্পর্শ করেছে। জগন্নাথ মন্দির তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
কয়েক দশক আগে বিশিষ্টজনদের উদ্যোগে দীঘায় ঢোকার মুখে সমুদ্রের দিকে যাওয়ার রাস্তায় বিধানচন্দ্রের আবক্ষ মূর্তিটি বসেছিল। কয়েকবছর আগে প্রশাসনিক উদ্যোগে মূর্তিটির উপর ছাউনিও বসেছে। মূর্তিটির চারপাশে বৃক্ষরোপণ, আলোর ব্যবস্থা সহ সৌন্দর্যায়নের দাবি থাকলেও তা পূরণ হয়নি। মূর্তির চারপাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে। ওল্ড দীঘার বাইপাস থেকে হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত রাস্তাটিকে ‘বিধান সরণি’ নামকরণ করার দাবিও পূরণ হয়নি। বিধানচন্দ্র ১৯৬২ সালে তাঁর মা অঘোরকামিনীদেবীর নামে দীঘার খাদালগোবরা মৌজায় ‘অঘোরকামিনী স্বাস্থ্যকেন্দ্র’ গড়ে তুলেছিলেন। বর্তমানে এটি রামনগর-১ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বলে পরিচিত। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নানা পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে।
দীঘায় সমুদ্রের পাড় বাঁধানো এবং বনাঞ্চল সৃজনের সূচনাতেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেন প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। দীঘা দেবেন্দ্রলাল জগবন্ধু শিক্ষাসদনের শিক্ষক, ইতিহাসবিদ নন্দগোপাল পাত্র বলেন, বিধানচন্দ্র রায় দীঘার উন্নয়নের প্রকৃত কাণ্ডারী। তাঁর মূর্তি অনাদরে পড়ে রয়েছে দেখে আমাদের খারাপ লাগে। প্রশাসনের কাছে দাবি, ওই মণীষীকে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত মূল্যায়ন করা হোক। তাঁকে ঘিরে যে দাবিগুলি রয়েছে, তা পূরণের ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেওয়া হোক। এবিষয়ে দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন সংস্থার(ডিএসডিএ) মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক অপূর্বকুমার বিশ্বাস বলেন, বিধানচন্দ্রের মূর্তির উপর ছাউনি রয়েছে। আলো সহ অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরির মধ্যে দিয়ে যাতে তাঁর মূর্তির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ হয়, তারজন্য আমরা বিশেষভাবে উদ্যোগ নেব।