নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: মমতার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর ১৫০০, এক লাফে ৩০০০ টাকা হবে বিজেপির ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য়। কাউকে বঞ্চিত করা হবে না। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারপর্ব থেকেই নরেন্দ্র মোদির দলের এই ঘোষণা বাংলার মহিলাদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছিল। সঙ্গে ছিল মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড পূরণের ‘চমক’ও। তাই তো পালাবদলের পর ভাতা দ্বিগুণ হওয়ার স্বপ্ন দু’চোখে ভরে আবেদনও করেছিলেন রাজ্যের মহিলারা। কিন্তু তারপরই ছন্দপতন। মাসে ৩০০০ টাকা ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে চাকরি-পারিবারিক আয়, স্বামীর সরকারি চাকরি, বাড়িতে তিনটি ঘর, জমির পরিমাণ ইত্যাদি নানা শর্ত আরোপ করা হয়। তা সত্ত্বেও নিজেদের যোগ্য মনে করে অনেকেই আবেদন করেছিলেন। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর তৃতীয় মাসে এই ভাতা পাওয়ার শেষ দিন ছিল বৃহস্পতিবার। তারপরও আবেদনকারীদের একটা বড়ো অংশ ‘বঞ্চিত’ থেকে গেলেন। তার জেরে এদিন বঙ্গললনাদের বিক্ষোভ ছড়াল উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গে। অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ পেতে আবেদন করতে হয় রাজ্য সরকারের সমাজকল্যাণ দপ্তরের কাছে। সেই দপ্তরের মন্ত্রী মালতি রাভারায়ের কোচবিহারের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। মন্ত্রী অবশ্য তখন ছিলেন কলকাতায়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। সূত্রের খবর, বিক্ষোভের জেরে এদিন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকও করেন মালতি। আরামবাগে মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের বাইরে মহিলাদের ক্ষোভের মুখে পড়েন স্থানীয় বিধায়ক হেমন্ত বাগ। দুবরাজপুরের গোকরুল গ্রামে বিধায়ক অনুপ কুমার সাহাকে ঘেরাও করেন ‘বঞ্চিত’ মহিলারা।
‘অন্নপূর্ণা’য় বঞ্চনা ইস্যুতে এদিন পথ অবরোধ হয়েছে বিভিন্ন জেলায়। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে পুরপ্রধানের ঘরের দরজা ভাঙার অভিযোগও উঠেছে। বনগাঁ পুরসভার গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন বিক্ষোভকারী মহিলারা। মধ্যমগ্রাম পুরসভার সামনে সোদপুর রোড অবরোধ করা হয়। উত্তরবঙ্গে মাথাভাঙা-১ বিডিও অফিস সংলগ্ন রাজ্য সড়ক, তুফানগঞ্জ-১ বিডিও অফিসের সামনে ১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ ছিল দীর্ঘক্ষণ। দক্ষিণ দিনাজপুরে জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে রাস্তায় বসে পড়েন মহিলারা। বালুরঘাট মহকুমা শাসকের দপ্তরে বিক্ষোভ চলাকালীন চেম্বারের নেমপ্লেট ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য এই পর্বেই নবান্ন সূত্রে খবর, এদিন বিকাল পর্যন্ত যোগ্য ১ কোটি ৩৮ লক্ষ ৫০ হাজার মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে গিয়েছে।
অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য গত ১০ জুলাই পর্যন্ত ১ কোটি ৮০ লক্ষ মহিলার আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ১ কোটি ৬২ লক্ষ আবেদন যাচাই করা হয়েছে। যোগ্য বলে চিহ্নিত করা হয়েছে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলাকে। যোগ্য এই আবেদনকারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যোজনার টাকা পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছিল গত ১৭ আগস্ট। নবান্ন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ১৭ লক্ষেরও বেশি আবেদন অযোগ্য বলে চিহ্নিত হয়েছে। শুধু আধার সংযুক্তিকরণ সংক্রান্ত ত্রুটির জেরেই বাদ পড়েছেন ১০ লক্ষ। এছাড়া বাড়িতে তিনটে ঘর, আয়কর দেওয়া পরিবার, স্বামী সরকারি চাকুরে এবং ৫০ ডেসিমাল জমি থাকার মতো (সাতটি নির্দিষ্ট পুরসভার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) শর্তভঙ্গ কারণে আরও সাত লক্ষ মহিলা অযোগ্য প্রতিপন্ন হয়েছেন। নবান্নের ওই সূত্রটি আরও জানিয়েছে, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য গত ১০ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত যে সমস্ত আবেদন জমা পড়েছে, সেগুলির যাচাইপর্ব চলবে সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত। তারপর নতুন করে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।