নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগপতিদের তাঁদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করার পাঠ দেবে রাজ্য সরকার। এতদিন তাঁদের নির্ভর করতে হতো থার্ড পার্টি অর্থাৎ মধ্যস্বত্বভোগীদের উপর। ফলে উদ্যোগপতিদের মুনাফার একটা মোটা অংশ তাদের পকেটে চলে যায়। অনেক সময় চাহিদা মতো পণ্য সরবরাহ করেও লাভের মুখ দেখতে পেতেন না ব্যবসায়ীরা। এবার সেই মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট কমাতেই ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগপতিদের বিদেশে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিতে স্বাবলম্বী করে তুলতে চাইছে সরকার। সেজন্য বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে উদ্যোগপতিদের। যাতে তাঁরা নিজেরাই তাঁদের উৎপাদিত পণ্য বিদেশে চাহিদা মতো পাঠাতে পারেন। যদিও এর আগে মাঝেমধ্যেই ভার্চুয়ালি এই পাঠ দেওয়া হতো। তবে এবার রীতিমতো সেমিনার করে রপ্তানির নানা বিষয় নিয়ে অবগত করানো হচ্ছে উদ্যোগপতিদের। কীভাবে পণ্য রপ্তানি করতে হবে, তার জন্য কী কী নথি দরকার, বিদেশি পণ্য রপ্তানি করতে গেলে টার্গেট ক্রেতা কারা। এমন নানা বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগপতিদের সঙ্গে।
গত বুধবার রানাঘাটে নদীয়া জেলা শিল্প কেন্দ্রের পক্ষ থেকে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব ফরেন ট্রেড কোলাবরেশনের একজন বিশেষজ্ঞ আসেন উদ্যোগপতিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য। ওই শিবিরে নদীয়া জেলার ১৫টি ক্লাস্টারের মধ্যে ৬টি ক্লাস্টারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। যার মধ্যে ছিল হরিণঘাটা রেডিমেড গার্মেন্টস ক্লাস্টার, হরিণঘাটা জুয়েলারি বক্স অ্যান্ড ব্যাগ ক্লাস্টার, চাকদহ প্লাস্টিক প্রসেসিং ক্লাস্টার, ঘূর্ণি ক্লে মডেল ক্লাস্টার, ফুলিয়া হ্যান্ডলুম ক্লাস্টার এবং জাফরনগর সিলভার অর্নামেন্টস ক্লাস্টার। এই ছ’টি ক্লাস্টারে প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি ইউনিট রয়েছে। যার মধ্যে শুধু হরিণঘাটা রেডিমেড গার্মেন্টস ক্লাস্টারেই রয়েছে হাজারের বেশি ইউনিট। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা সেই প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণ করেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সমস্ত ক্লাস্টারের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী ইউরোপ, দুবাই সহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। কিন্তু, সবটাই হয় থার্ড পার্টির মাধ্যমে। অর্থাৎ ব্যবসা করার জন্য মধ্যস্বত্বভোগীদের উপর নির্ভরশীল হতে হয়। এই নির্ভরশীলতার ফলে অনেক সময় ব্যবসায়ীদের ক্ষতির সম্মুখীনও হতে হয়। পাশাপাশি লাভের বড় অংশ চলে যায় থার্ড পার্টির পকেটে। প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, মধ্যস্বত্বভোগীরা ব্যবসায়ীদের থেকে ভারতীয় মুদ্রায় পণ্য কেনেন। তারপর তা বাইরের দেশে রপ্তানি করেন ডলারে। ফলে মোটা টাকা লাভ করে থার্ড পার্টি তথা মধ্যস্বত্বভোগীরা। এবার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগপতিরা যদি নিজেরাই সরাসরি বিদেশে তাঁদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করেন তাহলে লাভের পুরোটাই তাঁরা পাবেন। নদীয়া জেলায় ইতিমধ্যেই ছটি ক্লাস্টার নিয়ে প্রশিক্ষণ শিবির করা হয়েছে। আগামী দিনে বাকিদের নিয়েও এই শিবির করা হবে।