নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: আবার সবুজে ঢাকবে কোচবিহার। হেরিটেজের আওতায় এনে সৌন্দর্যায়নের কাজ বেশকিছুটা এগতেই এবার শুরু হল সবুজায়নের উদ্যোগ। কোচবিহার সংক্রান্ত পুরনো বইয়ের পাতায় খোঁজ মেলে রাজনগরের সৌন্দর্যের কথা। লাল সুড়কির চওড়া রাস্তা। তার দু’ধারে বড় বড় গাছ। সেই গাছের ছায়া পড়েছে রাস্তায়। শহরের মাঝে বড় বড় দিঘি, পুকুর, জলাশয়। তার ধারে কত না গাছ! চারপাশ সবুজে সবুজ। কিন্তু সেই অপরূপ সৌন্দর্য এখন আর নেই। বহু দিঘি, পুকুর উধাও হয়ে গিয়েছে। তবু রাজ্যের ‘সিটি অব বিউটি’ বলে পরিচিত কোচবিহার শহরের এখনও যে সৌন্দর্য রয়েছে, তা দেখলেই বোঝা যায় সেই সময় শহর ঠিক কেমন ছিল। এসব কথা মাথায় রেখেই রাজ্য সরকার এবার কোচবিহার পুরসভার ২০টি ওয়ার্ডের ৪২টি দিঘি, পুকুর, জলাশয়ের ধারে প্রায় ছয় হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে। মূলত ফলের গাছ লাগানো হবে।
শুধু গাছ লাগানোই নয়, সেই গাছের পরিচর্যা করে সেগুলিকে বড় করে তোলা হবে। যাতে আগামী দিনে শহরকে আরও সুন্দর দেখায়। শহরের জলাশয়গুলির ধারে প্রচুর পরিমাণে ফলের গাছ থাকলে সেই ফল খেতে নানা প্রজাতির পাখি আসবে। একসময় কোচবিহারের সাগরদিঘি সহ অন্যান্য জলাশয়ে পরিযায়ী পাখি আসত। হয়তো প্রচুর গাছ থাকলে ভবিষ্যতে তারাও আবার ফিরে আসতে শুরু করবে।
কোচবিহার পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, অম্রুত-২ প্রকল্পের মাধ্যমে এই গাছগুলি লাগানো হবে। বৃহস্পতিবার শহরের সুকান্ত মঞ্চে এ বিষয়ে একটি প্রশিক্ষণ শিবির হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, বনদপ্তরের আধিকারিক সহ অন্যান্যরা।
রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, কোচবিহার পুরসভার ২০টি ওয়ার্ডের ৪২টি দিঘি, পুকুর, জলাশয়ের ধারে গাছ লাগানো হবে। রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে এই গাছ লাগানো হবে। তার পরিচর্যাও করা হবে। এদিন এ বিষয়ে একটি প্রশিক্ষণ হয়েছে। তিন কিস্তিতে এঁরা টাকা পাবেন। ৫ হাজার ৭২২টা গাছ লাগানো হবে। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণ ফলমূলের গাছ রয়েছে। খুব দ্রুত এই কাজ করা হবে। এসব গাছ বড় হলে আগামী দিনে শহরের রূপ আরও বৃদ্ধি পাবে। শহর সুবজে ঢাকবে। - নিজস্ব চিত্র।