সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়া-কড়ুই রাস্তায় পাঁচঘড়া গেলেই মনে হবে এবড় খেবড়ো কোনও পার্বত্য অঞ্চলের রাস্তা। এই বাস রাস্তার পাঁচঘড়া থেকে পঞ্চাননতলা পর্যন্ত খানাখন্দ দিন দিন বাড়ছে। রাস্তার ওপর ইট পেতে খানাখন্দ বোজানোর চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। যাতায়াতে দুর্ভোগ বাড়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা। তবে এবার ওই রাস্তার জন্য ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করল রাজ্য সরকার। টেন্ডার ডেকে রাস্তা সংস্কার করবে পূর্তদপ্তর।
রাস্তার দু’দিকে আরও চওড়া করা হবে। তবে সমস্যা হচ্ছে পাঁচঘড়া থেকে পঞ্চাননতলা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি গ্রামে রাস্তার দু’দিকে বহু মানুষ জবর দখল করে বাড়ি বাড়িয়েছেন। তাঁদের সরাতে গিয়ে রীতিমতো বেগ পেতে হবে দপ্তরকে। এমনটাই আশঙ্কা করছেন দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা।
কাটোয়ার পূর্তদপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার শঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, রাস্তা চওড়া করা হবে। পাঁচঘড়া থেকে পঞ্চাননতলা পর্যন্ত ৮ কিমি রাস্তা সংস্কার করা হবে। তারজন্য ওই টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর জন্য টেন্ডার ডাকা হবে।
পূর্তদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া থেকে কড়ুই ১৪ কিমি রাস্তা। ওই রাস্তার মধ্যেই আপাতত পাঁচঘড়া থেকে পঞ্চাননতলা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ৮ কিমি রাস্তার খানাখন্দে ভরে গিয়েছে। পাঁচঘড়ার অবস্থা আরও বেহাল। রায়েরপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছেও বেহাল অবস্থা। অথচ ওই রাস্তা দিয়ে সারাদিনে কয়েকশো যানবাহন চলাচল করে। পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দে ভরে গিয়েছে রাস্তা। এতে ক্ষোভ বাড়ছে বাসিন্দাদের। ওই রাস্তা দিয়ে কাটোয়া থেকে কৈচর ভায়া কড়ুই, কাটোয়া থেকে বর্ধমান ভায়া কড়ুই, কাটোয়া থেকে কাটোয়া ভায়া কড়ুই, বড়ডাঙা দিয়ে বেশ কয়েকটি বাস চলাচল করে। চালকদের রীতিমতো কালঘাম ছুটে যায়। বর্ষাকালে তো কথাই নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা নিমাই সাহা, দীপক কুণ্ডু বলেন, রাস্তা দিয়ে এভাবে যাওয়া খুব মুশকিল। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের ওই রাস্তা দিয়ে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যেতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়।
গত বছর পুজোর আগে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা খরচ করে রায়েরপাড়া বাসস্ট্যান্ড ও পাঁচঘড়ায় ইট পেতে সংস্কার করা হয়েছিল। তার অবস্থাও এখন বেহাল হয়ে পড়েছে। এক ইঞ্জিনিয়ার জানান, আসলে রাস্তার ধারে পর্যাপ্ত নিকাশি নালা না থাকায় বর্ষার জল ঠিকমতো পাস করে না। তার জন্যই রাস্তার ক্ষতি হয়। পঞ্চাননতলার কাছে ফড়ে নদীর সেতুটিও বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে৷ বাসিন্দাদের অভিযোগ, ব্রিটিশ আমলের সেতুটি সংস্কার করা দরকার। তা নাহলে বিপদ ঘটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। পূর্তদপ্তর জানিয়েছে, ওই সেতুটিও নতুন করে করা হবে। তারজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।