নিজস্বপ্রতিনিধি, আরামবাগ: হুগলি জেলায় ১৭৫টি পেঁয়াজ গোলা গড়বে রাজ্য। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে চাষিদের মুনাফা দিতেই পেঁয়াজ গোলা গড়া হয়। কৃষি বিপণনদপ্তরের তরফে এরজন্য এক লক্ষ ২৫ হাজার টাকা করে চাষিদের ভর্তুকি দেওয়া হবে। এবার পেঁয়াজ গোলা গড়তে অনলাইনে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়। পেঁয়াজ গোলার বরাত পেতে বহু চাষি আবেদনও করেছেন। কৃষি বিপণন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার বিভিন্ন ব্লক থেকে অনলাইনেপ্রায় ৪৬০টি আবেদন জমা পড়েছে। আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন ব্লক থেকেও আবেদন করেছেন চাষিরা। শীঘ্রই আবেদন খতিয়ে দেখে চাষিদের তালিকা চূড়ান্ত করবে জেলা প্রশাসন।
এই ব্যাপারে রাজ্যের কৃষি বিপণন দপ্তরের মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, রাজ্যজুড়েই বহু সংখ্যক পেঁয়াজ গোলা গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেঁয়াজ চাষিদের কথা চিন্তা করে ভর্তুকির ব্যবস্থাও রেখেছেন। সারা বছর বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে যাতে চাষিরা দাম পান তাই লক্ষ্য আমাদের। অন্যদিকে, ক্রেতারাও যাতে নাগালের মধ্যে বাজার থেকে পেঁয়াজ কিনতে পারেন, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হুগলি জেলা থেকে ভালো সংখ্যক আবেদন আসায় লটারির মাধ্যমে প্রকল্পের উপভোক্তা বাছাই করা হবে।
গোঘাটের বালি পঞ্চায়েতের দামোদরপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই পেঁয়াজ চাষ হয়ে আসছে। বর্ষার সময় ওই এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। তাই চাষিরা কিছু সংখ্যক আলু ও পেঁয়াজ চাষ করেন। সেখানে বিগত বছরে পেঁয়াজ গোলা গড়ে উঠেছে। দামোদরপুরের চাষি সুদীপ বাগ বলেন, গত আর্থিক বর্ষে ৬৪ হাজার টাকা ভর্তুকিতে পেঁয়াজ গোলা তৈরি করেছি। অ্যাসবেস্টসের ছাউনি দিয়ে পেঁয়াজ গোলা গড়েছি। বছরভর সেখানেই পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। অন্যান্য চাষিরাও পেঁয়াজ গোলা গড়তে চাইছেন।
ওই এলাকার চাষি সুবোধ পোড়ে প্রায় দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করে আসছেন। তিনি বলেন, পেঁয়াজের ফলন হওয়ার পর স্থানীয় বহু হাটে বিভিন্ন সময়ে বিক্রি করা হয়। বাড়ি থেকেও অনেকে পেঁয়াজ কিনতে আসেন। কিন্তু বাড়িরই বিভিন্ন জায়গায় পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রাখা হয়। পেঁয়াজ গোলা তৈরির অনুমোদন পেলে ভালোই হবে। কীভাবে আবেদন করা যাবে জানলে তা করব।
কৃষি বিপণন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, হুগলি জেলায় এবার ১৭৫টি পেঁয়াজ গোলা গড়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। খানাকুল থেকে প্রায় দেড়শোর বেশি আবেদন জমা হয়েছে। বর্তমানে আবেদনপত্রগুলির স্ক্রুটিনি করা হচ্ছে। খড় ও অ্যাসবেস্টসের ছাউনি দিয়ে পেঁয়াজ গোলা গড়া যাবে। এরজন্য প্রায় তিন লক্ষ ৭৫ হাজার থেকে চার লক্ষ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ করা হয়েছে। কৃষি বিপনন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, গত বছরও শতাধিক পেঁয়াজ গোলা বিভিন্ন ব্লকে গড়া হয়।