Bartaman Logo
১২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রশ্নে এবার রাজ্যের স্কুল সিলেবাস কমিটি, বাংলা ভাষায় পাঠক্রম তৈরির কাজ শুরু এনসিইআরটির

রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নজরদারি শুরু হয়েছে। বাংলা ভাষায় নতুন সিলেবাস তৈরির কাজ করছে এনসিইআরটি। বিস্তারিত পড়ুন।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রশ্নে এবার রাজ্যের স্কুল সিলেবাস কমিটি, বাংলা ভাষায় পাঠক্রম তৈরির কাজ শুরু এনসিইআরটির
  • ১২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় এবার শুরু হল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নজরদারি। বিশেষ করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে রাজ্যের স্কুলশিক্ষার সিলেবাস কমিটি। সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যসচিবের দপ্তরে যে চিঠি এসেছে, তাতে রাজ্যের স্কুলপাঠ্য জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হয়েছে কি না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। কারা সিলেবাস তৈরি করেছেন, কেমন সিলেবাস তৈরি হয়েছে, কোন কোন বই পাঠ্য করা হয়েছে তার তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়েছে। এমনকি, স্কুলভিত্তিক বুকলিস্টের অডিটও চাওয়া হয়েছে। শিক্ষানীতি মেনে স্টেট কাউন্সিল ফর এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংকে (এসসিইআরটি) পাঠক্রম তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও করা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশনকে চিঠি লিখে এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েছিল একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। নমো ফাউন্ডেশন, টিএইচ নেটওয়ার্ক ফর অ্যাকসেস টু জাস্টিস অ্যান্ড মাল্টিডিসিপ্লিনারি আউটরিচ ফাউন্ডেশনের মতো সংস্থাগুলি শিক্ষা, ন্যায়বিচার এবং অন্যান্য সামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত। একই সঙ্গে তারা ‘রাষ্ট্রবাদী’ বলেও পরিচিত। তাই এক্ষেত্রে সিলেবাসের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ার বিষয়টিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এর সঙ্গে স্কুলব্যাগের ভার লাঘবসহ অন্যান্য বেশকিছু বিষয়েও রাজ্য কী পদক্ষেপ করেছে, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। শিক্ষার অধিকার আইন কার্যকর হওয়ার পরে এরাজ্যে কেন্দ্রের এনসিইআরটির প্রতিনিধিত্বমূলক সংস্থা এসসিইআরটি তৈরি হলেও সেটি কার্যত নিষ্ক্রিয়ই রাখা হয়েছিল। সিলেবাস তৈরির জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পৃথক সিলেবাস এক্সপার্ট কমিটিকে। গেরুয়াপন্থীরা বরাবরই সেই সিলেবাসের বিরুদ্ধে ইসলামিকরণের অভিযোগ তুলেছে। বিশেষ করে ‘রামধনু’র পরিবর্তে ‘রংধনু’, ‘আকাশি’ রংকে ‘আসমানি’ লেখা থাকা নিয়ে বিতর্ক হয়। সব মিলিয়ে তিনজন চেয়ারপার্সনের নেতৃত্ব সিলেবাস কমিটি কাজ করেছে। তবে, সিলেবাস কমিটির স্বাধীনভাবে কাজ করা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কর্তাদের মধ্যেও অসন্তোষ ছিল। কারণ, এগুলির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিলেবাস তৈরির দায়িত্ব থাকার কথা ছিল পর্ষদদুটির হাতেই। তবে, এই সরকারের আমলে ইতিমধ্যেই এনসিইআরটি নতুন করে বাংলা ভাষায় সিলেবাস তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে বলেই খবর। দিল্লিতে সেই কাজ হচ্ছে। অনেকসময় ডেকে পাঠানো হচ্ছে এসসিইআরটির প্রতিনিধিদের। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এবার এসসিইআরটির গুরুত্ব, দায়িত্ব এবং কার্যকলাপ বহুগুণে বাড়তে চলেছে। শুধু পাঠক্রম তৈরি নয়, সর্বভারতীয় নানা অ্যাকাডেমিক ক্রিয়াকলাপ, প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকবে এসসিইআরটির। চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়াদের নিয়ে ফাউন্ডেশনাল লার্নিং স্টাডি বলে যে প্রতিযোগিতামূলক প্রকল্প দেশের অন্যত্র চালু রয়েছে, তা এবার রাজ্যেও জোরকদমে হচ্ছে। এটির দায়িত্ব পেয়েছে এসসিইআরটি। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ