Bartaman Logo
১৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামে তুলতে সমস্যায় রাজ্য পুলিশ, তৃণমূল জমানায় উদ্ধার মাদকের খতিয়ান পায়নি নবান্ন

গত ১৫ বছরে পুলিশ যত মাদক বাজেয়াপ্ত করেছে তার খতিয়ান নবান্নে তারা দেয়নি। এই বিপুল পরিমাণ মাদক বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য চোরাপথে এরাজ্যে ঢুকেছিল।

অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামে তুলতে সমস্যায় রাজ্য পুলিশ, তৃণমূল জমানায় উদ্ধার মাদকের খতিয়ান পায়নি নবান্ন
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: গত ১৫ বছরে পুলিশ যত মাদক বাজেয়াপ্ত করেছে তার খতিয়ান নবান্নে তারা দেয়নি। এই বিপুল পরিমাণ মাদক বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য চোরাপথে এরাজ্যে ঢুকেছিল। তাই মাদক মামলায় পাকড়াও অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করা যায়নি। অথচ আইনে সেই সংস্থান রয়েছে। উলটে মারাত্মক অভিযুক্তরা জামিনে ছাড়া পেয়ে গিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই এই বেআইনি কারবার এখনো অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। 

Advertisement

পালাবদলের পরই বিষয়টি রাজ্য প্রশাসনের নজরে আসে। তারপরই সমস্ত জেলা পুলিশ এবং রেল পুলিশের (জিআরপি) কাছে এই উদ্ধারের তথ্যাদি তলব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কেসগুলিতে গ্রেপ্তার হওয়া দুষ্কৃতীদেরও যাবতীয় তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে পুলিশ ডিরেক্টরেট। এই তথ্য নবান্নে জমা পড়ার পরই অবৈধ মাদক কারবারিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য পদক্ষেপ করবে সরকার। তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক তদন্ত শুরু হবে। জামিনে মুক্ত অভিযুক্তরা ফের একই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে কি না তার ডেটাবেসও তৈরি করছে পুলিশ।
তৃণমূল জমানায় বিভিন্ন জেলায় গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ মাদক বাজেয়াপ্ত করা হয়। কিছু দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তারও করা হয় ওইসব মামলায়। সূত্রের খবর, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব মাদক আনা হচ্ছিল বাণিজ্যিকভাবে বিক্রয়ের মতলবে। ওই মাদক কারবারিদের অনেকেই কিছুদিন জেল খাটার পর জামিনে ছাড়া পেয়ে গিয়েছে এবং যথারীতি ফিরে গিয়েছে পাপ ব্যবসায়। অভিযোগ উঠেছে, তদানীন্তন পুলিশ প্রশাসনের একাংশকে ‘ম্যানেজ’ করেই তারা এই কারবার এইভাবে চালাচ্ছিল। এমনকি, তাদের সম্পত্তি যাতে বাজেয়াপ্ত না-হয় সেই রাস্তাও করে দিয়েছিল তৃণমূল প্রশাসনের একটি মহল। তদন্তে এমনও তথ্য সামনে এসেছে, বেআইনি মাদক কারবারের টাকায় কলকাতা শহরে একাধিক ফ্ল্যাট, জমি, গাড়ি ও দামি অলংকার কিনেছে অভিযুক্তরা। 
রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের মাদক ধরা পড়ার পর এই সংক্রান্ত তথ্য নবান্নে রাজ্য অর্থদপ্তরে পাঠাতে হয়। বেআইনি মাদক কারবার থেকে বানানো সম্পত্তির মূল্যায়ন করা হয় তারই ভিত্তিতে। এরপর পুলিশকে দেওয়া হয় এইসব সম্পত্তি ‘ব্লক’ করার নির্দেশ। চিহ্নিত সম্পত্তি বৈধ টাকায় কেনা, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এই প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলেই সেগুলি বাজেয়াপ্ত করে নিলামে তোলা যায়। তৃণমূল জমানার ১৫ বছরে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ। পালাবদলের পর এই সময়কালে কত পরিমাণ বাণিজ্যিক মাদক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, কারা ধরা পড়েছে, তাদের সম্পত্তির পরিমাণ কত প্রভৃতি তথ্য খুঁজতে গিয়ে রীতিমতো কালঘাম ছুটছে থানার অফিসারদের। অনেক ক্ষেত্রেই বাজেয়াপ্ত করা সামগ্রীর হিসাব মিলছে না।
পুলিশের ‘নিশ্ছিদ্র’ মালখানা থেকে সেগুলি ‘হাওয়া’ হয়ে গেল কোন জাদুতে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি ধৃত মাদক কারাবারিদের পূর্ণাঙ্গ তথ্যও অমিল, অনেক জেলাতেই।  পুলিশকর্তাদের বক্তব্য, তৃণমূল জমানায় মাদক কারবারিদের তথ্য বিশেষ উদ্দেশ্যেই হাপিশ করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন থানা যে তথ্য পাঠাচ্ছে, তার ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট মাদক কারাবারিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা শুরু হবে। যাদের তথ্য পাওয়া যাবে না তাদের সম্পর্কে নতুন করে তথ্য জোগাড় করে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে রাজ্যের নতুন প্রশাসন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ