Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাংলা সীমান্ত লাগোয়া অধিকাংশ আসনই জামাতের দখলে, জঙ্গি কার্যকলাপ বৃদ্ধির শঙ্কায় গোয়েন্দাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে রাজ্যের পুলিশ কর্তারা

পশ্চিমবঙ্গের একটা বড় অংশের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের জেলাগুলিতে সিংহভাগ সংসদ আসনই গিয়েছে জামাতের দখলে।

বাংলা সীমান্ত লাগোয়া অধিকাংশ আসনই জামাতের দখলে, জঙ্গি কার্যকলাপ বৃদ্ধির শঙ্কায় গোয়েন্দাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে রাজ্যের পুলিশ কর্তারা
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের একটা বড় অংশের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের জেলাগুলিতে সিংহভাগ সংসদ আসনই গিয়েছে জামাতের দখলে। যা যথেষ্ট চিন্তার কারণ বলেই মনে করছেন কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের গোয়েন্দা কর্তারা। কট্টরপন্থী এই রাজনৈতিক দলটি সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলিতে ব্যাপক জয় পাওয়ার প্রভাব এপারেও পড়বে এবং তার ফলে অশান্তি ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এই সূত্রেই এপার বাংলায় জঙ্গি সংগঠনের বড় মাথাদের নিয়মিত যাতায়াতের পাশাপাশি জেহাদি কাজকর্ম বাড়ার আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দারা। একাধিক ‘স্লিপার সেল’ তৈরির আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তাঁরা।

Advertisement

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে বিপুলভাবেই জিতেছে তারেক রহমানের বিএনপি। এনসিপির সঙ্গে জোট বেঁধেও অনেকটা পিছিয়ে জামাত শিবির। এই ভোটে তারা এককভাবে পেয়েছে ৬৮টি আসন। ভারতের সীমান্ত লাগোয়া রংপুর, সাতক্ষীরা, যশোর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ, খুলনা সর্বত্র দাপট দেখিয়েছে জামাত। রংপুরে ছ’টি আসনের সবক’টি, সাতক্ষীরায় চারটি আসনের চারটি, যশোরে ছ’টি আসনের মধ্যে পাঁচটি, খুলনায় ছ’টি আসনই পেয়েছে কট্টরপন্থী এই দল। সীমান্তবর্তী এলাকায় মৌলবাদী এই দলের প্রভাব বৃদ্ধির ফলে এ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ, বসিরহাট, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন, মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান, লালবাগ, বেলডাঙা, মালদহের বৈষ্ণবনগর, মেহেদিপুর, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে চিন্তা বেড়েছে। কারণ নদী বা স্থলপথে সীমান্ত পেরিয়ে যেকোনো সময় পশ্চিমবঙ্গের এই জেলাগুলিতে ঢুকে পড়া যায়। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, বিস্তীর্ণ সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় জামাত ভালো ফল করায় গা ঝাড়া দিয়ে উঠতে পারে জঙ্গি সংগঠনগুলি। এই সমস্ত জায়গায় একাধিক জঙ্গি শিবিরের কার্যকলাপ চলছে বলে ভারতীয় গোয়েন্দারা আগেই জেনেছেন। বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর মাথাদের সঙ্গে জামাতের বড় ঩নেতাদের ঘনিষ্ঠতার প্রমাণও বিভিন্ন সময় পেয়েছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এই জেলাগুলির লাগোয়া মুর্শিদাবাদ, মালদহ. কোচবিহার ও উত্তর ২৪ পরগনায় বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর একাধিক ‘স্লিপার সেল’ চলার তথ্য রয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাতে। এসটিএফের হাতে ধরা পড়া বাংলাদেশি জেএমবি বা এবিটি জঙ্গিরা জেরায় একাধিকবার জানিয়েছে, সাতক্ষীরা, যশোর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ হয়েই জঙ্গিরা ভারতে ঢুকেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় গোয়েন্দারা শুক্রবারই দফায় দফায় বৈঠক করেছেন বলে খবর। কোন কোন জায়গায় নিরাপত্তায় ফাঁক রয়েছে, তার কাটাছেঁড়া চলছে। জঙ্গি কার্যকলাপ ঠেকাতে তল্লাশির পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের কার্যকলাপ নিয়েও খোঁজখবর শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে বিএসএফকে। তবে এই এলাকায় জামাতের এই বাড়বাড়ন্ত নিয়ে বিজয়ী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার বলেন, ‘আওয়ামি লিগের দমনপীড়ন মূলক শাসন, বিরোধী দলকে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না দেওয়া, নির্বাচন না হতে দেওয়ার কারণেই জামাতের এই উত্থান।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ