Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাষের খরচ কমিয়ে ফলন বাড়াতে সৌরশক্তির মাধ্যমে সেচের ব্যবহারের পরিকল্পনা রাজ্যের

চাষের খরচ কমিয়ে ফলন বাড়াতে সৌরশক্তির  মাধ্যমে সেচের ব্যবহারের পরিকল্পনা রাজ্যের
  • ১৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: চাষিদের স্বার্থে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। কৃষিক্ষেত্রে খরচ কমিয়ে ফলন বাড়াতে এবার সৌরশক্তির মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সমবায় সমিতির মাধ্যমে এই ‘সৌর সেচ’ পরিষেবা চালু করা হবে। সেইমতো সমবায় সমিতিকে এই সোলার ইরিগেশন বানিয়ে দেবে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি চাষিদের উৎপাদিত ফল ও সব্জি যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য তৈরি করা হবে মিনি কোল্ড স্টোরেজ। দু’টি উদ্যোগই প্রান্তিক চাষিদের সরাসরি উপকৃত করবে বলে মনে করছে কৃষিদপ্তর। প্রাথমিকভাবে রাজ্যজুড়ে তার পাইলট প্রজেক্টের কাজ শুরু হতে চলেছে। সমগ্র কর্মকাণ্ডের খরচ বহন করবে সমবায় দপ্তর। যদিও এখনও পর্যন্ত এই কাজের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ চূড়ান্ত হয়নি।‌

Advertisement

সমবায় দপ্তরের এক আধিকারিকের কথায়, চাষিদের সুবিধার্থে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার তরফ থেকে সমবায় সমিতিকে সোলার ইরিগেশন বানিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সব্জি, ফসল স্টোর করে রাখার জন্য মিনি কোল্ড স্টোরেজ দেওয়া হবে সমবায় সমিতিকে। প্রাথমিক স্তরে কাজ রয়েছে। খুব শীঘ্রই তার বাস্তবায়ন হবে। এর ফলে প্রান্তিক এলাকার চাষিরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে নদীয়া জেলার ১৮টি ব্লকের একটি করে সমবায় সমিতিতে সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থার পাইলট প্রকল্প চালু করা হচ্ছে। সেইমতো কোন সমবায় সমিতিকে দিয়ে এই কাজের সূচনা করা হবে, তা নির্ধারণ করছে জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় উপযুক্ত সমবায় সমিতি চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রশাসনিক স্তরেও চলছে বৈঠক। আপাতত প্রতি ব্লকে একটি করে সমবায় সমিতিকে দিয়ে কাজ শুরু হলেও ধীরে ধীরে বাকি সমবায় সমিতিতেও তার বাস্তবায়ন করা হবে। 
নদীয়া জেলার কৃষি কর্মাধ্যক্ষ সিরাজ শেখ বলেন, আমাদের সরকার চাষিদের উন্নতিসাধন নানা কাজ করছে। এবার চাষিদের সেচ ও ফসল নষ্ট হওয়ার মতো সমস্যার অনেকাংশে সমাধান হবে।
জানা গিয়েছে, সৌরশক্তির মাধ্যমে জল তোলার ব্যবস্থায় চাষির সেচের খরচ অনেকটাই কমে যাবে। ডিজেল কিংবা বিদ্যুতের উপর নির্ভরতা কমবে। ফলে প্রান্তিক ও ছোট চাষিদের কৃষিকাজ অনেক সহজ ও লাভজনক হয়ে উঠবে। প্রশাসনের আধিকারিকরা মনে করছেন, সমবায় সমিতিকে দিয়ে এই কাজ করানো প্রধান উদ্দেশ্য হল বহু চাষির কাছে একসঙ্গে পৌঁছে যাওয়া। কারণ প্রতি সমবায় সমিতিতে গ্রামের বহু চাষে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকে। তাঁরা চাষের কাজের জন্য স্থানীয় কৃষি সমবায় সমিতি থেকে নানা সুযোগ সুবিধা নেন। 
উল্লেখ্য, গ্রামের দিকে কোল্ড স্টোরেজের অভাবে অনেক ফসল নষ্ট হয়ে যায় চাষিদের। তখন ক্ষতির মুখে পড়তে হয় তাঁদের। এবার সেই সমস্যা সমবায় সমিতিকে দূর করতে চলছে রাজ্য সরকার। চাষিদের উৎপাদিত পণ্য যাতে দ্রুত পচে না যায়, সেই লক্ষ্যে সমবায় সমিতিগুলিকে মিনি কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করে দেওয়া হবে সমবায় দপ্তরের তরফ থেকে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য, চাষিদের উৎপাদিত ফসল সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে বাজারে ভালো দামে বিক্রির সুযোগ করে দেওয়া।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ