Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেসরকারি স্কুলের ফি’তে লাগাম দিতে বিল রাজ্যের

বেসরকারি স্কুলের ফি’তে লাগাম দিতে বিল রাজ্যের
  • ১২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্বাস্থ্যের পর শিক্ষা। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার মাত্রাছাড়া খরচে রাশ টানতে কয়েক বছর আগে স্বাস্থ্য কমিশন গঠন করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এই ক’বছরে অসংখ্য মানুষ তার সুফল পেয়েছেন। এবার বেসরকারি স্কুলের ফি-তে লাগাম দিতে তৎপর হয়েছে রাজ্য সরকার। কারণ, স্কুল ফি নিয়ে আপত্তি-অভিযোগের বহর দিন দিন বাড়ছে। কোথাও ভর্তির সময় লক্ষাধিক টাকা চাওয়া হচ্ছে। কোথাও আবার আচমকা বিজ্ঞপ্তি জারি করে মাসিক ফি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে পরিকাঠামো উন্নয়ন, অনুষ্ঠান ইত্যাদির নামে নানা সময় টাকা নেওয়া হচ্ছে। সন্তানের স্কুলের খরচ মেটাতে জেরবার হচ্ছেন অভিভাবকরা। এনিয়ে শিক্ষাদপ্তরের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন তাঁরা। এহেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে মধ্যবিত্তকে সুরাহা দিতে বিল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। তারপর আইন প্রণয়ন করে কমিশন গঠন করা হবে।

Advertisement

মঙ্গলবার বিধানসভা অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এই প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়। বিজেপি বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায় প্রশ্ন করেন, ‘বেসরকারি স্কুলগুলি অনেক টাকা ডোনেশন নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যাপারে রাজ্য সরকারের কি কোনও ভাবনাচিন্তা রয়েছে?’ জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, ‘বেসরকারি স্কুলগুলির ক্রমাগত ফি বৃদ্ধি, অভিভাবকদের আর্থিক সংগতি না দেখে অতিরিক্ত বোঝা চাপানোর অভিযোগ আমাদের কাছেও এসেছে। সমস্যা নিরসনে একটি কমিশন গঠনের জন্য আমরা বিল আনব। বিষয়টি এখন মুখ্যমন্ত্রীর বিবেচনাধীন রয়েছে। আমরা শীঘ্রই বিধানসভায় ওই বিল পাশ করাব। তবে কবে থেকে তা কার্যকর হবে, তা রাজ্যপালের স্বাক্ষরের উপর নির্ভর করছে।’ 
মধ্যবিত্ত, চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সাধারণত মাসকাবারি খরচের একটি নির্দিষ্ট বাজেট থাকে। মাসের মাঝখানে হঠাৎ করে স্কুলের ফি বৃদ্ধি হলে বা কোনও কারণে মোটা অঙ্কের টাকা স্কুলকে দিতে হলে মাথায় হাত পড়ে তাদের। অথচ স্কুলের নানা অব্যবস্থার সমাধানে সেভাবে নজর দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ। ব্রাত্যর কথায়, ‘নোটিস না দিয়ে বেতন বাড়িয়ে দেওয়া তো আছেই। সেই সঙ্গে কর্পোরাল পানিশমেন্ট, পরিকাঠামোগত নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি আমরা লক্ষ করেছি।’ সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বেসরকারি স্কুলগুলির মান বা উৎকর্ষতাকে অস্বীকার করছে না রাজ্য সরকার। কিন্তু প্রাইভেট নার্সিংহোমের মতো বেসকারি স্কুলগুলিও যেভাবে খরচ বাড়িয়ে চলেছে, তা নিয়ন্ত্রণ জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বাগত জানিয়েছেন সব দলের বিধায়ক। বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ, বিষয়টি তারা নজরে রেখেছে। বিল আনার উদ্যোগ প্রশংসনীয়।’ সেই সঙ্গে বিজেপি বিধায়কদের প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর আবেদন, বিধানসভায় বিল পাশ হওয়ার পর তা যাতে রাজভবনে পড়ে না থাকে, তার জন্য তাঁরাও যেন রাজ্যপালের কাছে তদ্বির করেন।  
রাজ্যের কলেজগুলিতে অসংখ্য আসন ফাঁকা পড়ে থাকা নিয়ে ব্রাত্য এদিন বলেন, ‘জেনারেল লাইন ছেড়ে ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকনিক্যাল, প্রযুক্তির অন্যান্য শাখায় পড়ার ঝোঁক বাড়ছে। তাই এ বছর ৯ লক্ষ আসনের মধ্যে সাড়ে চার লক্ষ ফাঁকা। নতুন কলেজ ছাত্রদের কোনও কাজে আসবে না।’ তিনি আরও জানান, ২০২৩-২৪ সালে ৯৫০০ জন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। আইনি জট কাটলে আরও নিয়োগ হবে। শিক্ষকদের প্রথম পোস্টিং দূরে হলেও সেখানে যাওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ