নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রের এক কর্মীর বিরুদ্ধে প্রচুর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ওই টাকা ফেরতের দাবিতে মঙ্গলবার বিক্ষোভ দেখালেন একদল গ্রাহক। তাঁদের অভিযোগ, প্রায় ৫ কোটি টাকা তছরুপ হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত কর্মী প্রদীপ দাসকে দেগঙ্গা থানার পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। এই খবর চাউর হতেই হাদিপুর-ঝিকরা পঞ্চায়েত অফিসে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখান ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা। তাঁদের অভিযোগ, টাকা ফেরতের কোনো সমাধান না করে ওই কর্মীকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন প্রধান।
পরে বিক্ষোভ তুলতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে গ্রাহকদের ধ্বস্তাধ্বস্তি হয়। এই ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় পঞ্চায়েত অফিসে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাটি হাদিপুর-ঝিকরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেড়াচাঁপা এলাকায় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে গ্রামবাসীরা তাঁদের টাকা জমা দিয়েছিলেন। প্রায় ৫০০ গ্রাহক ওই কেন্দ্রে টাকা জমা করেন। অভিযোগ, টাকা জমার কোনো রসিদ তাঁদের দেওয়া হয়নি। জিজ্ঞাসা করলে নানা অজুহাতে প্রদীপ দাস প্রসঙ্গ এড়িয়ে যেতেন। গত তিন সপ্তাহ ধরেই বাসিন্দারা এর প্রতিবাদ করছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ জানান তাঁরা। পরে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অবশ্য টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়েছেন। এর মধ্যে এদিন হাদিপুর-ঝিকরা ১ পঞ্চায়েত প্রধানের উপস্থিতিতে প্রদীপকে পুলিশ এসে তুলে নিয়ে যায় বলেই অভিযোগ গ্রাহকদের।ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক আমিনা বিবি বলেন, ‘আমি পরিচারিকার কাজ করি। ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু তার কোনো রসিদ পাইনি। অথচ টাকা ফেরত না দিয়েই প্রধানের উপস্থিতিতে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছে প্রদীপ দাসকে।’ এনিয়ে হাদিপুর-ঝিকরা ১ পঞ্চায়েতের প্রধান কামরুজ্জামান বলেন, ‘গ্রাহকদের অভিযোগ ঠিক। প্রায় ৫ কোটি টাকা তছরুপ হয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। আমি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। ওরা টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়েছেন। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, তার কোনো ভিত্তি নেই। বিরোধীদের চক্রান্ত।’-নিজস্ব চিত্র