Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

বাজেট ঘোষণার আগে শিল্পমহলের সঙ্গে বৈঠক রাজ্যের, জমি সংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের দাবি

বাজেট ঘোষণার আগে শিল্পমহলের সঙ্গে বৈঠক রাজ্যের, জমি সংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের দাবি
  • ৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলতি মাসে রা‌জ্য বাজেট ঘোষণা হবে। তার আগে মঙ্গলবার অর্থদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মুখ্যসচিব প্রভাত মিশ্র রাজ্যের শিল্পমহল ও বণিকসভাগুলির সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁর কাছে শিল্পমহল একাধিক আবদার করেছে। তবে সেখানে প্রধান ভূমিকা নিয়েছে জমি সংক্রান্ত দাবিদাওয়া। শিল্পমহল দাবি করেছে, জমির কারণেই এখানে বড় শিল্প আসছে না। এমনকি ছোটো ও মাঝারি শিল্পের পরিকাঠামোগত সমস্যাতেও সামনের সারিতে জমি। সরকারের কাছে এই সমস্যার আশু সমাধান চায় শিল্পমহল।

Advertisement

বণিকসভা মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বক্তব্য, শহরাঞ্চলে জমির ঊর্ধ্বসীমা আইন তুলে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ, শহর এলাকায় শিল্প গড়ার জন্য একলপ্তে বড়ো জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে মূল অন্তরায় এই আইন। পাশাপাশি ১৯৫৬ সালের ভূমি সংস্কার আইনও তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা। 
তাদের বক্তব্য, ৭৫ বিঘার বেশি জমি যদি কোনো শিল্প সংস্থা কিনতে চায়, তাহলে ‘১৪ ওয়াই’ ধারায় সেই সংস্থাকে সরকারের থেকে বিশেষ অনুমতি নিতে হবে। এই পদ্ধতি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। অন্যান্য রাজ্যে এই সমস্যা না থাকায় বাংলা থেকে বিনিয়োগ পাড়ি দিচ্ছে ভিন রাজ্যে। তা আটকাতেই এই আইন না রাখা জরুরি, মত তাদের। সংংগঠনের কর্তারা সরকারের কাছে জমির সার্কেল রেট ও রেজিস্ট্রেশন ফি কমানোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, জমির বাস্তব দরের চেয়ে কোনো জায়গায় সার্কেল রেট ২০০ থেকে ৩০০ শতাংশ বেশি। রেজিস্ট্রেশন ফি-ও চড়া। যেসব রাজ্য ইতিমধ্যেই ভালো বিনিয়োগ টেনেছে, তাদের সঙ্গে তুলনা করে যদি এখানে সার্কেল রেট ও রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়, তাহলে প্রতিযোগিতার বাজারে লাভবান হবে বাংলা। 
বণিকসভা ভারত চেম্বার অব কমার্স দাবি করেছে, বিনিয়োগ টানতে এখানে লজিস্টিকস পার্ক, হিমঘর ও কোল্ড চেইন পরিকাঠামো যেমন দরকার, তেমনই প্রয়োজন আরো বেশি ডেটা সেন্টার, গ্লোবাল ক্যাপাসিটি সেন্টারের মতো পরিকাঠামো। তাদের বক্তব্য, সরকার বড়ো শিল্পের সঙ্গেই ছোটো শিল্পের জন্যও একটি ইনসেন্টিভ পলিসি বা আর্থিক সুরাহা দেওয়ার নীতি আনুক। এই সুবিধা আ঩গেই ঘোষিত হয়েছিল, কিন্তু সেই টাকা শিল্পমহলকে দেওয়া হয়নি, তা যেন দ্রুত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়, দাবি করেছে তারা। পাশাপাশি ওই আর্থিক সুরাহা দেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়ারও পক্ষে তারা। 
আবাসন নির্মাতা সংস্থাগুলির সংগঠন ক্রেডাই ওয়েস্ট বেঙ্গল দাবি করেছে, জমির রেকর্ডে বহু জায়গায় ‘বর্গা’ কথাটি রয়ে গিয়েছে, যেখানে বহুবছর চাষাবাদ হয়নি। রা঩জ্যে ১০ থেকে ২০ শতাংশ জমির অবস্থা এখন এমনই।  জমিগুলির মালিকানা হস্তান্তর বা অন্য কাজে লাগানো কঠিন। এই বিষয়টিতে যাতে বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়, দাবি করেছে ক্রেডাই। মহারাষ্ট্র, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ বা গুজরাতের মতো রাজ্যগুলিতে টাউনশিপ, ল্যান্ড পুলিং এবং ল্যান্ড রিঅ্যাডজাস্টমেন্ট পলিসি আছে, যেগুলি দ্রুত নগরোন্নয়নে অত্যন্ত কার্যকর। এখানেও যাতে এমনই কোনো নীতি আনা হয়, তার দাবি জানিয়েছে ওই সংগঠন। 

সম্পর্কিত সংবাদ