প্রীতেশ বসু, কলকাতা: বন্যা নিয়ন্ত্রণ, ভাঙন রোধ এবং সেচ ব্যবস্থা উন্নয়ন সংক্রান্ত পাঁচটি বৃহৎ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা চেয়ে কেন্দ্রকে চিঠি দিল রাজ্য সরকার। পালাবদলের পর সেচদপ্তরের তরফে কেন্দ্রকে এই চিঠি পাঠানো রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিকভাবে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বন্যা নিয়ন্ত্রণ সহ সেচ সংক্রান্ত কাজের জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দ নিয়ে পূর্বতন রাজ্য সরকারের সঙ্গে দিল্লির দ্বৈরথের একাধিক নজির রয়েছে। বারবার অনুরোধ এবং চিঠি দেওয়ার পরও বছরের পর বছর মেলেনি প্রকল্পের টাকা। তাই রাজ্যের কোষাগার থেকে খরচ করেই একাধিক প্রকল্পের কাজ চালু করতে হয়েছিল বলে দাবি করেছিল আগের সরকার। তবে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ডবল ইঞ্জিন’ বাংলায় উন্নয়নের কাজে সম্পূর্ণভাবে সহায়তা করবে কেন্দ্র। তাঁর এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রাজ্যের তরফে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রকে দেওয়া চিঠির গুরুত্ব অনেকগুণ বেড়ে গিয়েছে বলেই অভিজ্ঞ আমলাদের মত। রাজ্যের তরফে চিঠি দেওয়া হয়েছে গত ৫ জুন। ফলে এখন সবার নজর, রাজ্যের এই সমস্ত প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রের ভাগের মোট ১৭ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা কবে থেকে দেওয়া শুরু করে মোদি সরকার। কেন্দ্র টাকা দিলেই নিজের অংশের টাকা দেওয়া শুরু করবে রাজ্য।
জলশক্তি মন্ত্রকের সচিব ভিএল কানথা রাওকে দেওয়া চিঠিতে রাজ্যের সেচদপ্তর পাঁচটি প্রকল্পে প্রস্তাবিত খরচ, কেন্দ্র ও রাজ্যের ভাগ, কোন কোন জেলার মানুষ উপকৃত হবে, প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি ইত্যাদি তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে কেন্দ্রকে পাঠানো এ সংক্রান্ত পুরানো প্রতিটি চিঠিও যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের তরফে। পাঁচটি বৃহৎ প্রকল্পের জন্য তহবিলের আবেদন জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গ দেশের নিম্ন অববাহিকার রাজ্য হওয়ায় প্রায় সব বড়ো আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক নদীর জলপ্রবাহের শেষ অংশ এখানে এসে পড়ে। ফলে বন্যা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জোয়ার এবং নদীর পলিমাটির চাপে রাজ্য নিয়মিত ক্ষতির মুখে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে বন্যা ও নদীভাঙনের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য এই প্রকল্পগুলির অর্থ দ্রুত বরাদ্দ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।’ রাজ্য সরকার আশা, দ্রুত এই প্রকল্পগুলিকে ‘ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বর্ডার এরিয়া প্রোগ্রাম’ এবং ‘অ্যাক্সিলারেটেড ইরিগেশন বেনিফিট স্কিম’-এর অন্তর্ভুক্ত করে অর্থ বরাদ্দ করবে কেন্দ্র।’