Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বালি মাফিয়াদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাজ্য সরকারের ওয়েবসাইট হ্যাক, ইকোপার্ক থেকে পাকড়াও মাস্টারমাইন্ড

বেআইনিভাবে সরকারি ওয়েবসাইট ঢুকে অবৈধ নথি তৈরি করে সাইবার প্রতারকরা। বালি মাফিয়াদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকা ঘরে তুলেছে।

বালি মাফিয়াদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাজ্য সরকারের ওয়েবসাইট হ্যাক, ইকোপার্ক থেকে পাকড়াও মাস্টারমাইন্ড
  • ৮ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বেআইনিভাবে সরকারি ওয়েবসাইট ঢুকে অবৈধ নথি তৈরি করে সাইবার প্রতারকরা। বালি মাফিয়াদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকা ঘরে তুলেছে। সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবশেষে গলসি থানার পুলিস এই চক্রের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড প্রীতমকুমার দে’কে শনিবার কলকাতার ইকোপার্ক থেকে গ্রেপ্তার করেছে। এই চক্রের কয়েকজনকে পুলিস আগেই গ্রেপ্তার করেছে। তবে, মাস্টারমাইন্ড অধরা ছিল। পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হবে।

Advertisement

কীভাবে চলছিল এই প্রতারণাচক্র? পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারকরা ওয়েস্ট বেঙ্গল মিনারেল ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেডের ওয়েবসাইট হ্যাক করে। মাফিয়াদের সঙ্গে এই চক্রটি যোগাযোগ করে। তাদের তারা টাকার বিনিময়ে বালির ঘাটের চালান তৈরি করে দেয়। নদী থেকে বালি তুলতে গেলে ই-চালান নিতে হয়। ডব্লুবিএমটিডিসিএল বালির ঘাটের চালান বা বৈধ নথি দেয়। নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডারের পর নির্দিষ্ট সংখ্যক চালান দেওয়া হয়। সরকারকে রাজস্ব দিয়ে চালান দিলে যেকোনও প্রান্তে বালির গাড়ি গেলে পুলিস বা অন্য কোনও দপ্তর আটকায় না। বালি মাফিয়ারা পুলিসের চোখে ধুলো দিতে প্রতারকদের কাছে ই–চালান কিনেছিল। অবৈধ ঘাট থেকে বালি তুলে তারা বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা আয় করত। তাদের কাছে চালান থাকায় পুলিস গাড়িগুলি আটকাত না। হুবহু আসলের মতোই নকল চালানগুলি তৈরি করা হতো। ২০২৩ সালের ৩ফেব্রুয়ারি এক ব্যক্তি বিষয়টি জানতে পেরে লিখিত অভিযোগ করে। পুলিস তদন্তে নেমে গলসির এক বালি মাফিয়ার নাম পায়। তার অফিসে তল্লাশি চালানো হয়। এছাড়া আরও কয়েকজন মাফিয়ার নামও উঠে এসেছিল। সেই সময় পুলিস এবং ভূমি সংস্কার দপ্তর তদন্তে নেমে কয়েকজনকে পাকড়াও করলেও মূল অপরাধীরা অধরা ছিল। এক আধিকারিক বলেন, মাফিয়া ও প্রতারকরা হাত মিলিয়ে সরকারের মোটা অঙ্কের টাকা লোপাট করে দিয়েছে। চক্রটি শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, রাজ্যের সমস্ত জেলাতেই সক্রিয় ছিল। উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সেই সময় অবৈধ বালির ঘাট চলেছিল। নকল চালান দেখিয়ে মাফিয়ারা কারবার চালিয়েছিল। চক্রের মাথার উপর কোন কোন প্রভাবশালীর হাত রয়েছে, তা পুলিস খতিয়ে দেখছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ